মুম্বই: ভারতীয় দলের প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী মঙ্গলবার জানিয়ে ছিলেন ২০২০ আইপিএল ঠিক করে দেবে ধোনির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভবিষ্যৎ৷ কিন্তু একদিন পরেই মহেন্দ্র সিং ধোনি জানিয়েছিলেন জানুয়ারির পর সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেবেন৷ অর্থাৎ আগামী দু’মাস যেন তাঁকে এ ব্যাপারে কোনও প্রশ্ন করা না হয়৷

বিশ্বকাপের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়নি ধোনিকে৷ ফলে তাঁর অবসর নিয়ে ক্রিকেটমহলে জল্পনা অব্যাহত। বিশ্বকাপের পর দু’মাসের ব্রেক নিলেও চার মাস অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে৷ এক পর এক সিরিজ খেলছে ভারত৷ কিন্তু ধোনির দেখা নেই৷ আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে এবং টি-২০ সিরিজের দলেও ধোনিকে রাখা হয়নি৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ধোনির প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিয়ে৷

তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক৷ মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে এ ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে ধোনি বলেন, ‘জানুয়ারি পর্যন্ত এ ব্যপারে আমাকে কোনও কিছু জিজ্ঞেস করবেন না’ অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম মাসের পর নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভবিষ্যৎ জানিয়ে দেবেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক৷

ভারতীয় ক্রিকেট তিনিই একমাত্র অধিনায়ক, যিনি দু’টি বিশ্বকাপ জিতেছেন৷ এছাড়াও রয়েছে একটি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি৷ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম সংস্করণে দেশকে ট্রফি এনে দেন ধোনি৷ এর বছর চারেক পর ২০১১ সালে ওয়াংখেড়েয় ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জেতে ধোনির ভারত। তারপর জিতেছেন ইংল্যান্ডের মাটিতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি৷

তাঁর ক্রিকেটীয় জীবনে দুই বিশ্বকাপ জয় চিরদিন অমলিন হয়ে থাকবে বলেও জানান মাহি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাঁরা দে সংবর্ধনা পেয়েছিলেন, তা কোনও দিন ভুলতে পারবেন না বলেও জানান প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। ধোনি বলেন, ‘ক্রিকেট জীবনের সেরা দুই মুহূর্ত বেছে নিতে বলা হলে ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১১ ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জয় থাকবে। টি-২০ বিশ্বকাপ জিতে ফেরার পরে মুম্বইয়ে খোলা বাসে দলকে যে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল তা কোনও দিন ভুলতে পারব না। মেরিন ড্রাইভের পাশে হুড খোলা বাসে দাঁড়িয়ে রাস্তায় জনপ্লাবন দেখেছিলাম৷ সকলেই আমাদের দেখার জন্য নিজেদের গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন।’

আর ওয়াংখেড়েতে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জয় প্রসঙ্গে ধোনি জানান, ভারত জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার সময় পুরো গ্যালারি বন্দেমাতরম গান গেয়ে উঠেছিল, এত তিনি রোমাঞ্চিত হয়ে পড়েছিলেন। ধোনি বলেন, ‘জেতার জন্য তখনও ১৫ থেকে ২০ রান বাকি ছিল। কিন্তু ওয়াংখেড়ের দর্শকরা একসঙ্গে বন্দেমাতরম গাইতে শুরু করেছিলেন।’

২০১৯ বিশ্বকাপেও নেতা না-থাকলেও তাঁর হাতেই ছিল ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা৷ কিন্তু সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চেষ্টা করেও দলকে ফাইনালে তুলতে পারেননি ধোনি৷ তাঁর রান-আউটই শতকোটি ভারতবাসীর স্বপ্ন শেষ করে দেয়৷ তারপর থেকে ভারতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যায়নি ধোনিকে৷