ওয়াশিংটন: ফের মেক্সিকো সীমান্ত বরাবর উত্তেজনা৷ সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ সেই হুমকিকে বাস্তবায়িত করতে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় আরও মার্কিনী সেনা মোতায়েন করা হয়েছে৷ দক্ষিণ প্রান্তের এই সীমান্ত বারবারই মার্কিন কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে৷

তবে এবার সশস্ত্র সেনা পাঠানোর ঘটনাকে একটু বেশিই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিশ্ব রাজনৈতিক মহল৷ অনুপ্রবেশ বন্ধ না হলে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প৷ ২০ হাজার শরণার্থী নিয়ে একটি ক্যারাভ্যান মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে বলে খবর৷ সেই ক্যারাভ্যান আটকাতেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা৷

ট্যুইট করে ট্রাম্পের অভিযোগ বারবার মেক্সিকোকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও অনুপ্রবেশ থামছে না৷ এবার কড়া ব্যবস্থা নেবে আমেরিকাই৷ সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে৷ কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা এই শরণার্থীদের বেশ ধরে প্রচুর পরিমাণে মাদকপাচারকারী ঢুকে পড়ছে৷

উল্লেখ্য ২০১৮ সালেও একই ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ তাদের বক্তব্য ছিল মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্ত নিরাপদ নয়৷ কারণ সেখান থেকে প্রবেশ করতে পারে লক্ষ লক্ষ অভিবাসী৷ এই সীমান্ত সিল করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তাই সেখানে সেনা মোতায়েন করা হবে বলে জানায় হোয়াইট হাউস৷

প্রসঙ্গত, মেক্সিকোর বেশ কিছু শহর প্রায় ১ হাজার ২০০ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে৷ এতেই চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তাঁর মতে এই শরণার্থীদের দেশে ঢুকতে দেওয়া উচিত হয়নি মেক্সিকোর৷ এই ঘটনায় তিনি মেক্সিকোর ওপর ক্ষুব্ধ৷

এদিকে, এর আগে হন্ডুরাস থেকে একটি ক্যারাভ্যানে করে শরণার্থীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে রওনা দিয়েছে, এমন খবর পাওয়ার পর দেশটির সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি৷ যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপদ করার জন্য ট্রাম্পের আগে দুজন প্রেসিডেন্ট ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন।

মূলত গুয়েতেমালার মতো দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর বাসিন্দা ওই দলের সদস্যরা। তাদের কারও উদ্দেশ্য কোনও মতে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়া আর কারও ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা৷

এই শরণার্থী দলটি মেক্সিকোর যে শহরগুলো পেরিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোথাওই বাধা পাননি তারা৷ শুধু তাই নয়, বেশ কিছু সুবিধাও রাখা হয়েছে তাদের জন্য৷ ব্যবস্থা করা হয়েছে বাসস্থানের৷ পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের দিকে যেতে গাড়ির ব্যবস্থাও করে দিয়েছে মেক্সিকোর শহরগুলো। আপাত দৃষ্টিতে এমন কাজকে মেক্সিকোর শহরগুলোর সহযোগিতা মনে হলেও, শরণার্থীদের মুখপাত্র রডরিগো আবেজা মনে করেন, এর একটি কারণ, দ্রুত তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া৷