ওয়াশিংটন: ফের একবার সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পরোক্ষে পাকিস্তানকে বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ প্রেক্ষিতেই এই বার্তা বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞমহল৷

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তালিবানদের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে সব রাষ্ট্রকে৷ যাবতীয় ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে বিশ্বের প্রতিটি দেশকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে৷ বিশেষত, সেই সব দেশ, যারা সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাদের নিজেদের অবস্থান বদলানোর সময় এসেছে৷

গঠন মূলক ও সক্রিয় কঠোর পদক্ষেপ না হলে সন্ত্রাসবাদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠবে বিশ্ব৷ সেটা হতে দেওয়া যায়না বলে এদিন বার্তা দেন ট্রাম্প৷ না নাম করে পাকিস্তানকেও একহাত নেন তিনি৷ পরিষ্কার জানান, যে সব দেশ এখনও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে দ্বিমুখী আচরণ করছে, তারা সাবধান হোক৷ সবদিক থেকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি৷

কাবুলের বিস্ফোরণকে ভয়াবহ ও নৃশংস বলে চিহ্নিত করে এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ বিশ্বের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে পাকিস্তানকেই দুষেছেন, তার প্রমাণ মিলেছে জানুয়ারীতেই৷ পাক সরকারকে কোনও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে না বলে এরআগে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে ৩০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয় আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সদর দফতর পেন্টাগন। তারা আরও জানায়, এর আগে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনার জন্য পাকিস্তানকে যে ৭০ কোটি ডলার সাহায্য দেয়ার কথা ছিল, তাও আটকে দেওয়া হয়েছে৷ কোয়ালিশন সাপোর্ট ফান্ড বা সিএফএফ-এর আওতায় পাকিস্তানকে এই ৩০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল আমেরিকার।

যে সব সহযোগী দেশ জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান চালানোর জন্য অর্থ ব্যয় করে, তাদের সাহায্য করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই তহবিল। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই পেন্টাগনের কাছ থেকে এই সাহায্য পেয়ে আসছিল এবং তারাই এই তহবিল থেকে সর্বাধিক সাহায্যপ্রাপ্ত দেশ। কিন্তু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের ভূমিকায় বেশ কয়েক বছর ধরেই ওয়াশিংটন অসন্তুষ্ট।