কলকাতা : তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা নেতাদের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর পরেই মোটামুটি আলোচিত নাম হল রাজীব বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি চাইছেন তাঁর পুরনো কেন্দ্র ডোমজুর থেকেই এবারের বিধানসভা ভোট লড়তে। দিল্লিতে বাংলার প্রার্থী তালিকা তৈরির জন্য বিজেপি শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন ‌।সেই বৈঠক থেকে বেরোনোর পর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি ডোমজুড় থেকে লড়তে চান এবং শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হতে চান বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে।সেক্ষেত্রে ডোমজুর থেকেই রাজীবকে শেষমেশ প্রার্থী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফাইল ছবি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীসভায় অন্যতম উচ্চশিক্ষিত মন্ত্রী ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রাক্তনী রাজীব পরবর্তীকালে এমবিএ পাশ করেন । দীর্ঘদিন কর্পোরেট সংস্থায় চাকরি করেছেন তিনি৷ ২০১১ এবং ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে ডোমজুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁকে সেচমন্ত্রী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পরবর্তীকালে তিনি অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী এবং বনমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। কিন্তু সম্প্রতি নানা ভাবে দলের কাজে অসন্তুষ্ঠ ছিলেন। এদিকে আবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদের প্রার্থী হিসেবে রাজীব ডোমজুড় কেন্দ্রে নিজের পছন্দের এক নির্দল প্রার্থীকে দাঁড় করিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কল্যাণ ঘোষকে হারিয়ে দেন।আর তাতেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোষানলে পড়েন তিনি।

কিছুদিন ধরে তাঁকে দলের বিরুদ্ধে বেসুরো গাইতে দেখা যাচ্ছিল৷ ডিসেম্বর মাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, দলে স্তাবকতা করতে পারলে নম্বর বেশি। ভালকে খারাপ, খারাপকে ভাল বলতে পারি না তাই আমার নম্বর কম। অন্যদের বেশি’। এই সময় আবার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে নবান্নর চারপাশে পোস্টার পড়তে দেখা যায়।তবে রাজীবের ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য তৃণমূল একেবারে উদ্য়োগ নেয়নি তা নয়। ডিসেম্বর মাসে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে আলোচনায় বসেছিলেন রাজীব। আলোচনার পর জানিয়েছিলেন, ‘ক্ষোভ থাকতেই পারে। আলোচনার মাধ্যমে তা মিটিয়ে নেব৷ শীর্ষ নেতৃত্ব আমাকে ডাকলে আবার আসব৷’ এমনকি সেই সময় শুভেন্দু অধিকারীর দলবদলের জল্পনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমার সঙ্গে কাউকে জড়াবেন না৷’

কিন্তু তার কয়েক দিন পরে আবার জানুয়ারি মাসেই বালিতে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বেশ কিছু নেতা দলের কর্মীদের চাকর বাকর ভেবে তাঁদের ভাবাবেগ নিয়ে খেলেন। এঁদের জবাব কর্মীরাই দেবেন। কর্মীরাই ওই সব নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করবেন।’ এর ঠিক পরেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি৷  তার কিছুদিন পরেই ফেসবুকে একই রকম ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করায় তার দলত্যাগ করা নিয়ে জল্পনা উসকে দেয়। এরপর ২২ জানুয়ারি, ২০২১ মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরে যোগ দেন বিজেপিতে।

তবে তার সমর্থনে যেমন পোস্টার পড়েছিল তেমনওই আবার ওই ডোমজুর কেন্দ্রে তার বিরুদ্ধেও পোস্টার পড়তে দেখা গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া ওই সব ব্যানার-ফ্লেক্সে লেখা ছিল, ‘আর নয় পরিযায়ী, এ বার ভূমিপুত্র চাই’। কোথাও আবার ওই বাক্যের আগে সুটে-বুটে’ শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ডোমজুড়ের বাসিন্দা নন। তাঁর আদি বাড়ি হাওড়া শহরে। বর্তমানে তিনি কলকাতায় থাকেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।