কোয়েম্বাটুর: দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া দলটায় দখিনা বাতাস নিয়ে আসতে পারত কেবল একটা জয়। সেই লক্ষ্য নিয়েই হেড কোচহীন দলটা উড়ে গিয়েছিল দাক্ষিণাত্যে। সামনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সিটি এফসি। ধারেভারে গত মরশুমের মত ঝাঁঝ না থাকলেও দাক্ষিণাত্য ডার্বিতে গোকুলামকে ৩-২ গোলে হারিয়ে এদিন লাল-হলুদের মুখোমুখি হয়েছিল চেন্নাই।

সেই চেন্নাইকে আধিপত্য নিয়ে হারিয়ে আই লিগে জয়ের সরণীতে ফিরল ইস্টবেঙ্গল। কোয়েম্বাটুরে শনিবার আকবর নওয়াজের দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে লিগ টেবিলে অবস্থান কিছুটা উন্নত করল কলকাতা জায়ান্টরা। একইসঙ্গে দমবন্ধকর লাল-হলুদে এই জয় যেন দখিনা হাওয়ারই সামিল।

নয়া কোচ মারিও রিভেরা এখনও কলকাতা এসে পৌঁছতে পারেননি। ফলে সহকারী বাস্তব রায়ের স্ট্র্যাটেজিতেই এদিন মাঠে নেমেছিল জুয়ান মেরা, হাইমে কোলাডোরা। সূত্রের খবর, কলকাতা ছাড়ার আগে আগামী কয়েকটি ম্যাচের পরিকল্পনা বাতলে দিয়ে গিয়েছেন আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজ। সেই ছকেই বাস্তব রায় এদিন বাজিমাত করলেন কীনা জানা নেই, তবে আধিপত্য নিয়েই এদিন দাক্ষিণত্য থেকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরছে লাল-হলুদ। ডার্বির প্রথম একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে এদিন চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে দল সাজিয়েছিলেন বাস্তব রায়।

গোলে রালতের পরিবর্তে চলতি আই লিগে প্রথমবারের জন্য মাঠে নামলেন মিরশাদ মিচু। ডিফেন্সে মার্তি ক্রেসপি কার্ড সমস্যায় না থাকার দরুণ মেহতাব সিংয়ের সঙ্গে শুরু করেন আশির আখতার এবং রাইট উইংয়ে পিন্টু মাহাতোর পরিবর্তে একাদশে শুরু করেন ব্র্যান্ডন। চলতি আই লিগে প্রথমবারের জন্য এদিন ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে সক্ষম হল গতবারের রানার্সরা। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই এদিন কাঙ্খিত গোলটি পেয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। বক্সের মধ্যে চেন্নাইয়ের এক ডিফেন্ডার হাতে বল লাগালে পেনাল্টি পায় লাল-হলুদ। কিন্তু চেন্নাই গোলরক্ষকের বিশ্বস্ত দস্তানায় আটকে যায় কোলাডোর স্পটকিক।

তবে গোল নষ্ট করেও এদিন হতোদ্যম হয়ে পড়েনি লাল-হলুদ। বরং সময় যত গড়িয়েছে ডান প্রান্ত বরাবর তীক্ষ্ণ হয়েছে জুয়ান মেরা-কোলাডো ও ব্র্যান্ডন ত্রয়ীর কম্বিনেশন। ৩৫ মিনিটে মিজো উইঙ্গারের থ্রু ধরে গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন কোলাডো। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুবর্ণ সুযোগ ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন স্প্যানিশ মিডিও। উলটোদিকে কাটসুমি উসার দুরন্ত ফ্রি-কিক ততোধিক দক্ষতায় সেভ করে ইস্টবেঙ্গলের দুর্গ অক্ষত রাখেন মিচু। প্রথমার্ধ গোলশূন্য ভাবেই শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে চেন্নাই রক্ষণে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। ৪৮ মিনিটে কোলাডোর আরও একটি দুরন্ত প্রয়াস রক্ষা করে স্কোরবোর্ড অপরিবর্তিত রাখেন চেন্নাই গোলরক্ষক সান্তানা। ৫২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের একটি গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। এমন সময় সদ্য দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া আনসুমানা ক্রোমার অন্তর্ভুক্তি আক্রমণ আরও ধারালো করে কলকাতার ক্লাবটির। লাল-হলুদ শেষমেষ ডেডলক ভাঙে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে। কোলাডোর ডানপ্রান্তিক ঠিকানা লেখা ক্রস টোকায় জালে রাখেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার দে লা এসপাদা মার্টিন।

ঠিক ৯ মিনিট বাদে কোলাডোকে বক্সের মধ্যে ট্রিপ করে ফেলে দেন চেন্নাই ডিফেন্ডার বালাকৃষ্ণান। দ্বিতীয়বার পেনাল্টি থেকে গোল করতে কোনওরকম ভুলচুক করেননি স্প্যানিশ মিডিও। ৭৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করা ইস্টবেঙ্গলের তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়ে যায় সেখানেই। তবে দ্বিতীয় গোলের অনতিপরেই অধিনায়ক রালতের চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার ঘটনা কাঙ্খিত জয়ের মাঝেও চিন্তার উদ্রেগ ঘটায় শিবিরে। তিন ম্যাচ হারের পর এই জয় লিগ টেবিলে চতুর্থস্থানে তুলে আনল ইস্টবেঙ্গলকে। ৮ ম্যাচে লাল-হলুদের পয়েন্ট ১১।