ঢাকা: পারিবারিক অশান্তির কারণ যে এম আকার নেবে তা ভাবতে পারেননি এলাকাবাসী৷ শুক্রবার রাতে ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী রইলেন তাঁরা৷ জামাইয়ের হাতে প্রকাশ্যেই খুন হয়েছেন শাশুড়ি৷ একের পর আত্মীয়কে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করেছে হামলাকারী৷ সবমিলে জামাইষষ্ঠীর দিনে রক্তাক্ত পরিস্থিতি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মাদ্রাসাপাড়া এলাকায়৷

হামলাকারীর নাম অসীম কুমার অধিকারী৷ তারই ছুরির আঘাতে খুন হয়েছেন শাশুড়ি শেফালী অধিকারী। জখম হয়েছেন শ্বশুর সদানন্দ ও তাঁর ছেলে আনন্দ ও হামলাকারী অসীমের স্ত্রী ফাল্গুনি৷ রক্তাক্ত পরিস্থিতি দেখে শিউরে গিয়েছেন সবাই৷ আততায়ী জামাই পলাতক৷ তদন্তে নেমেছে পুলিশ৷

আরও পড়ুন : মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশই সার, বাঁকুড়াজুড়ে গেরুয়া বিজয় মিছিল

জানা গিয়েছে, নয় বছর আগে ফাল্গুনীর সঙ্গে খুলনার দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা অসীম কুমার অধিকারীর বিয়ে হয়। অসীম পুলিশের সিআইডি কনস্টেবল। তাদের ছয় বছরের একটি ছেলে আছে। অসীম বর্তমানে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত৷ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়ির কাছেই কলেজপাড়ায় ভাড়াবাড়িতে বসবাস করেন অসীম। অভিযোগ, অসীম স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। সেই কারণে অশান্তি লেগেই ছিল বাড়িতে৷ শুক্রবার রাতে অসীম তাঁর স্ত্রী ফাল্গুনিকে মারধর করে৷ ভয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসেন ফাল্গুনি৷

গভীর রাতে অসীম শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীর নাম ধরে ডাকাডাকি শুরু করেন। স্ত্রী ঘরের দরজা খুলে দেয়৷ এরপরই ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে আঘাত করে অসীম। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন শেফালী অধিকারী৷ তাকেও ছুরি দিয়ে কোপায় অসীম৷ এরপরেই উন্মত্ত হয়ে শ্বশুর, শ্যালক ও স্ত্রীর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ ছুরির আঘাতে ঘটনাস্থলেই শাশুড়ি শেফালীর মৃত্যু হয়৷ এরপরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় অসীম৷ প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় প্রত্যেককে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান৷

সিআইডি কনস্টেবলের এমন উন্মত্ত আচরণে পুলিশ হতবাক৷ রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিমউল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অসীমকে ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।