স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: দেড় দিন ধরে সমুদ্রে ফেরানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হল। মৃত্যু হল পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগর থানা এলাকার উদবাদাল খালে সাঁতরে বেড়ানো ডলফিনের। শনিবার সকালে নেতুড়িয়ার কাছে মুগবেড়িয়া খাল থেকে ডলফিনটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তার শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। খালের মাছ ধরার জালে বারবার ধাক্কা খেয়েই ডলফিনের মৃত‍্যু হয়েছে বলেই প্রাথমিক অনুমান। বনকর্মীরা ডলফিনের দেহ উদ্ধার করেছে। ডলফিনের মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে তা জানা যাবে ময়নাতদন্তের পরই। ডলফিনের মৃত্যুতে বনদফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ভুপতিনগরের উদবাদল এলাকায় খালের জলে ওই ডলফিনটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। এভাবে ডলফিনকে গ্রামের মধ্যে দেখতে পাওয়ায় উৎসাহের অন্ত ছিল না৷ তবে তারই মাঝে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা জাল নিয়ে মাছটিকে ধরতে চেষ্টা চালায়। যদিও পুলিশ ও বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে চলে আসায় সেই প্রয়াস স্বার্থক হয়নি। তবে ওই পর্যন্তই ছিল প্রশাসনের তৎপরতা।

শুক্রবার দিনভর হাজার হাজার গ্রামবাসীরা খালের পাড়ে ডলফিনটিকে দেখতে এলে সেটি ভয় পেয়ে ক্রমেই আরও গ্রামের ভেতরের দিকে ঢুকে পড়তে থাকে। তবে মাছটিকে নদীতে ফেরৎ পাঠানোর কোনও পরিকাঠামোই ছিল না বনকর্মী বা পুলিশের। তাই তাঁরা প্রায় নীরব দর্শকের মতোই ডলফিনের পেছনে তাড়া করে ফেরেন।

শুক্রবার সন্ধ্যে নাগাদ হাল ছেড়ে দেন বনকর্মী ও পুলিশ। মাছটি তখন চলে গিয়েছে আরও গ্রামের ভেতরে। অবশেষে শনিবার সকালে উদবাদল থেকে প্রায় ৬ কিমি দূরে ডলফিনটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বনকর্মীদের দাবী, তাঁরা মাছটিকে বড় খালের দিকে তাড়িয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সেটির মৃত্যুর দায় কার? খালের ভিতর মৎস্যজীবীরা মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেছিলেন। ওই জালের মাধ্যমে আঘাত পায় ডলফিনটি।

অন্যদিকে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে জেলার বনদফতরের বিরুদ্ধে। অভিযোগে সরব হয়েছে এলাকার বাসিন্দারা। এদিন, বনকর্মীরা ডলফিনের মৃতদেহ উদ্ধার করতে এলে দীর্ঘক্ষণ ডলফিনের দেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।