তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সুস্থ আর অসুস্থ কুকুরে ছড়াছড়ি বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। যত্র তত্র অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। অনেক সময় তারা রোগী ভরতি ওয়ার্ডগুলিতেও ঘুরে আসছে বলে অভিযোগ।

জেলার সব থেকে বড় এই সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রতিদিন কয়েক বাজার রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন। বাঁকুড়া জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে পাশের জেলা পুরুলিয়া, হুগলি ও বর্ধমানের একাংশের মানুষও এখান থেকেই সরকারি চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে সারা বছর রোগীদের একটা চাপ সহ্য করতে হয় এই হাসপাতালকে। সাধারণ মানুষ যেখানে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হতে আসেন৷ সেখানে কুকুরের অবাধ বিচরণ মানুষকে ভাবাচ্ছে।

এক আত্মীয়কে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা ছাতনা এলাকার যুবক পূর্ণেন্দু দত্ত বলেন, সকালে পৌঁছানোর পর থেকে দেখতে পাচ্ছি যত্রতত্র কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে তো কয়েকটি কুকুর ভীষণভাবে অসুস্থ। আমরা ভীষণ আতঙ্কে আছি। যেকোনো সময় কামড়ে দিতে পারে। সুস্থ হতে হাসপাতালে এসে কুকুরের কামড় খেয়ে অসুস্থ না হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। এই ভেবেই আমরা আতঙ্কে আছি বলে তিনি জানান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও কুকুরের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক গৌতম নারায়ণ জানান, বিষয়টি আমরা পুরসভাকে জানিয়েছি। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এই কুকুরের সমস্যাটি দীর্ঘ দিনের। মূলত হাসপাতাল এলাকায় নানান হোটেল গড়ে ওঠায় অসংখ্য কুকুর খাবারের টানেই এখানে চলে আসছে। ফলে একটা সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে পুরসভার তরফেও বিষয়টি অস্বীকার করা হয়নি। পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের মতে, এতো দিন আমাদের এই বিষয়ে তেমন কোন পরিকাঠামো ছিল না। তারা প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের পাশে ফাঁকা জায়গায় একটি খাঁচা তৈরি করে কুকুরগুলিকে ধরে নির্ব্বিজকরণের কাজ করা হবে। এই কাজে প্রয়োজনীয় অনুমতি মিললে যাবতীয় খরচ পুরসভা দেবে৷ জেলাশাসকও খরচের বিষয়টা দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি৷