স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ডাক নাম বিঙ্গো৷ উচ্চতা ১.৫ ফুট৷ গায়ের রঙ সাদা খয়েরি আর কালো মেশানো৷ বয়স ৪ বছর৷ কান ঝোলা, গলায় রুপোলী রঙের চেন৷

যে কেউ লাইন দুটো পড়ে বলবেন এতো নিখোঁজের বিজ্ঞাপন৷ হ্যা ঠিকই বুঝেছেন৷ কিন্তু কে নিখোঁজ হয়েছে? আর তাকে নিয়ে যে কাণ্ড হচ্ছে সল্টলেকে তা শুনলে চমকে যাবেন৷ যদিও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে নিউটাউন থানায়৷

নিউটাউনে দিনের বেলায় নিখোঁজ। স্বভাবতই দুশ্চিন্তায় পরিবারের সদস্যরা৷ তাদের রাতের ঘুম, খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ হতে চলেছে৷ স্বাভাবিক বাড়ির সদস্য বলে কথা৷ এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে, টোটো গাড়ি ভাড়া করে পরিবারের বাবা ও ছেলে মাইকিং করছে নিউটাউনের বিভিন্ন এলাকায়৷ খুঁজে পেতে ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে৷

নিউটাউনের বিভিন্ন জায়গায় লিফলেটও বিলি হয়েছে। এমনকি খোঁজ দিতে পারলে আর্থিক পুরস্কার এর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এতসব কান্ড যাকে নিয়ে আসলে সে হল নিউটাউনের বাসিন্দা দীপক চ্যাটার্জীর বাড়ির পোষ্য কুকুর৷

গত শুক্রবার নিউটাউনের বাসিন্দা দীপক চ্যাটার্জীর ছেলে বোধিসত্ত্ব চ্যাটার্জী সকালে বাড়ির পোষ্য কুকুরকে নিয়ে প্রাতঃভ্রমনে বেরিয়েছিলেন৷ নিউটাউন নারকেল বাগান মোড়ে যেতেই হাত ফসকে পোষ্যটি ছুটতে শুরু করে৷ তার পিছন পিছন দৌড়ে গিয়েও তাকে ধরতে পারেনি বোধিসত্ত্ব৷

তারপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।ঘটনার পর থেকে দুঃচিন্তায় ঘুম উড়েছে পরিবারের সদস্যদের৷ বিগত চার বছর ধরে রয়েছে পরিবারের সঙ্গে।খোঁজে না পেয়ে অবশেষে নিউটাউন থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তারা।

যেখানে গত মাসে এনআরএস হাসপাতালে কুকুরদের পিটিয়ে মারার অভিযোগে দুই নার্সিং পড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ৷ কুকুর কান্ড নিয়ে রাজ্যজুড়ে হৈচৈ পরে গিয়েছিল৷ আন্দোলনে নেমেছিল কুকুর প্রেমীরা৷

ময়না তদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে কুকুর শাবকদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ এরপরই পুলিশ প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেল অ্যাক্টে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে৷ এছাড়া পশু হত্যা ও প্রমাণ লোপাটের জন্য ৪২৯ ও ২০১ ধারা যুক্ত করা হয়েছে৷

অন্যদিকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার দ্বৈপায়ন বিশ্বাসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল৷

আর নিউটাউনের এই ঘটনা যেন তার উলোটপুরাণ।