জয়নগর: যথাযথ মর্যাদায় বাড়ির পোষ্য কুকুরের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সারল জয়নগরের দক্ষিণ বারাসতের গোস্বামী পরিবার। পোষ্যের শ্রাদ্ধে এলাকার শতাধিক শিশুকেপাত পেড়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হল৷

দক্ষিণ বারাসতের দক্ষিণ কালিকাপুর মনিমালা মাঠের বাসিন্দা রতন গোস্বামী৷ বাড়িতে পোষার জন্য একটি কুকুর নিয়ে আসেন তিনি। অল্প দিনেই কুকুরটি তাঁদের পরিবারেরই একজন সদস্য হয়ে যায়। সকলের আদরে ওই পোষ্যের নামকরণ করা হয় জিমি৷ শুধু তাই নয়, গোস্বামী পরিবারের পদবিও দেওয়া হয় জিমিকে৷ বাড়ির সবার আদরের পোষ্যের নাম হয় জিমি গোস্বামী৷

গোস্বামী পরিবারের সুখ-দুঃখে জড়িয়েছিল জিমি৷ দীর্ঘদিন ধরে থেকে পরিবারেরই একজন হয়ে ওঠে সে৷ জিমির একটু শরীর খারা হলেই ঘুম ছুটত বাড়ির সকলের৷ পরম যত্নে কখনও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েও জিমিকে ফের সুস্থ করে তুলতে চেষ্টার কোনও কসুর ছিল না গোস্বামী পরিবারের৷ এমনকী জিমির জন্যই সপরিবারে বাড়ি বাইরে যেতেন না গোস্বামী বাড়ির সদস্যরা৷ জিমিও আষ্টেপৃষ্টে বেঁধেছিল পরিবারটির সঙ্গে৷ পরিবারের ছোটদের সঙ্গে তার খুনসুটি তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতেন বাড়ির বড়রা৷

সবই ঠিকঠাক চলছিল। তাল কাটল গত ৩১ শে ডিসেম্বর৷ হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে জিমি৷ তড়িঘ়ডি তাকে নিয়ে পশু চিকিৎসকদের কাছে যান গোস্বামী পরিবারের সদস্যরা৷ চিকিৎসক জানান জিমির মৃত্যু হয়েছে৷ জিমির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে দক্ষিণ বারাসতের গোস্বামী পরিবারে৷ স্বজন হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন বাড়ির প্রত্যেকে৷ ছোটদের খাওয়া বন্ধের উপক্রম হয়৷ পরিবারের তরফে সিদ্ধান্ত হয়, রীতি মেনে জিমিরও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হবে৷

সেই মতো জিমির দেহ পুঁতে দেওয়ার পর রীতি মেনে শ্রাদ্ধের তোড়জোড় শুরু হয়৷ গলায় কাছা পরেন গৃহকর্তা রতন গোস্বামীর ছেলে চঞ্চল গোস্বামী৷ পুরোহিতের বিধান মেনে বাড়িতে চলে নিরামিষ খাওয়া দাওয়া৷ জিমির শ্রাদ্ধে আশেপাশের শতাধিক শিশুকে নিমন্ত্রণ করা হয়৷ গোস্বামী বাড়ির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রতিবেশীরাও

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।