কলকাতা: ‘শিগগিরই আমি সুসময় নিয়ে আসছি পৃথিবীতে…অপেক্ষা করো…।’ এমনই অপরাজেয় প্রত্যয়ে এসে থেমেছিল তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ঘুণপোকা’। তারপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। এখনও লিখে চলেছেন তিনি। তিনি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। সম্প্রতি মুক্তি পেল তাঁর বায়োপিকের ট্রেলার।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর। ময়মনসিংহ জেলায়, ব্রহ্মপুত্র নদীর ধারে। ভারতীয় রেলে কর্মরত ছিলেন বাবা। সে কারণে শৈশব-যৌবন কেটেছে নানান ঠাঁইয়ে। কলেজ স্তরের পড়াশোনা কলকাতায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। বৃত্তি হিসেবে প্রথম জীবনে গ্রহণ করেন শিক্ষকতা, পরে সাংবাদিকতা। প্রথম উপন্যাস ‘ঘুণপোকা’ তাঁর কীর্তিপথকে প্রশস্থ করে দেয়।

১৯৮৯ সালে ‘মানবজমিন’ উপন্যাসের জন্য অর্জন করেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার। এবার সেই সাহিত্য আকাদেমির উদ্যোগেই নির্মিত হল শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বায়োপিক। পরিচালনা করেছেন অশোক বিশ্বনাথন। সম্প্রতি দ্য সস ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপর তৈরি এই বায়োপিকের ট্রেলার দেখানো হয়। সাহিত্য আকাদেমির এমন উদ্যোগেকে কুর্নিশ জানিয়েছে শীর্ষেন্দু ভক্তরা।

তথ্যচিত্রে রয়েছে প্রিয় অগ্রজকে নিয়ে নবনীতা দেবসেন, সমরেশ মজুমদার, বুধদেব দাশগুপ্ত ,আবুল বাশার প্রমুখ অনুজ সাহিত্যের স্মৃতিচারণ। ছোটদের জন্যও অবিরাম লিখেছেন তিনি। শিশুকিশোর সাহিত্যের অনন্য কৃতির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁকে দেওয়া হয় বিদ্যাসাগর স্মৃতি পুরস্কার। অনন্ত ‘মানবজমিন’ ধরে অবিরাম হেঁটে চলা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে ২৭ মিনিটের তথ্যচিত্রটি দেখার জন্য অপেক্ষা করে আছে তাঁর গুণমুগ্ধরা।