হাওড়া: এনআরএসের ঘটনা নিয়ে চিকিৎসকদের প্রতিবাদ হাওড়াতেও। বুকে কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদে সামিল হন তাঁরা। তবে, পরিষেবা সচল রাখেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

এনআরএসে চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজ্যের সব সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালের আউটডোর বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছিল চিকিৎসকদের যৌথ মঞ্চ। এই হামলার প্রতিবাদে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি হাওড়ার চিকিৎসকরাও এদিন প্রতিবাদে সামিল হন।

হাওড়া জেলা হাসপাতালের সরকারি চিকিৎসকরা এদিন সকাল থেকেই জরুরি বিভাগের পরিষেবা চালু রাখেন। তবে তাঁরা বহির্বিভাগে রুমে না বসে রুমের বাইরে বসে রোগীদের পরিষেবা দেন। এনআরএসের ঘটনার প্রতিবাদস্বরূপ চিকিৎসকদের বুকে ছিল কালো ব্যাজ। এদিন সকালে হাওড়া জেলা হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা এনআরএসের ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল করেন।

এদিকে, হাসপাতাল সুপার দাবি করেছেন চিকিৎসা পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। জেলার অন্যান্য হাসপাতালেও পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল বলে দাবি করেছেন হাওড়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। অন্যদিকে, এনআরএস ইস্যুতে হাওড়ার মহেশ ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেও জুনিয়র ডাক্তাররা এদিন বিক্ষোভ দেখান। সেখানে এদিন আউটডোরে পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তবে ইমারজেন্সি বিভাগে রোগীদের পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র চিকিৎসকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এদিন হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপার নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সকাল থেকেই আউটডোর চালু রয়েছে। সমস্ত বিভাগের চিকিৎসকেরা হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছেন। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন বহির্বিভাগে রোগী কম ছিল। আগাম খবর থাকায় অনেক রোগীই চিকিৎসার জন্য বহির্বিভাগে আসেনি। চিকিৎসা পরিষেবা প্রায় স্বাভাবিক ছিল। এদিন আউটডোরে পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও এদিন সমস্যায় পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন অনেকেই। এদিন জেলা হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা করতে আসা জাদিনা খাতুন নামে এক রোগী বলেন, চোখের সমস্যায় হাসপাতালে এসেছিলাম।

কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়। পিলখানার বাসিন্দা মহম্মদ শামিম বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে বহির্বিভাগে স্ত্রীরোগ বিভাগে ডাক্তারের কাছে দেখাতে এসেছিলাম। দীর্ঘক্ষণ ডাক্তার না আসায় সমস্যায় পড়তে হয়। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান শিবপুরের বাসিন্দা রাহুক শেখ, দাশনগরের বাসিন্দা রানু মাঝি, হাওড়া ময়দান এলাকার বাসিন্দা মিঠু দাস। এরা সকলেই জানান হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা করাতে এসে এদিন সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এদিকে চিকিৎসকেরা দাবি করেছেন, এনআরএসের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা এদিন কালো ব্যাজ পরে পরিষেবা দিয়েছেন। ইমারজেন্সি সহ সকল পরিষেবা প্রায় স্বাভাবিক ছিল। অপরদিকে হাওড়ার একমাত্র মেডিক্যাল কলেজ মহেন্দ্র ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এদিন সকাল থেকেই বহির্বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সূদুর বাঁকুড়া, বর্ধমান, মেদিনীপুর থেকে আসা বেশ কয়েকশ রোগীর চিকিৎসা ইমার্জেন্সি বিভাগে করা হয়। বাঁকুড়া থেকে আসা শেখ বুলা খাতুন বলেন, আমাদের সহানুভূতি ওনাদের সঙ্গে আছে। দূর থেকে এসেছি তাই ইমার্জেন্সিতেই দেখাব। এই প্রসঙ্গে জুনিয়র ডাক্তার অভিজিৎ মান্না বলেন, “আমরা বহির্বিভাগ বন্ধ রাখলেও ইমার্জেন্সি চালু রেখেছি। রোগীর পরিজনেরা সবাই খারাপ নয়। এনআরএসের ঘটনার পরে আমাদের সবার মনে আতঙ্ক রয়েছে। আমরা রোগী ও তাদের পরিজনদের আমাদের পাশে দাড়াতে আবেদন করেছি। অপরদিকে এদিন বহির্বিভাগ বন্ধ রেখে বাইরে টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসে রোগীদের পরিষেবা দেন চিকিৎসকরা। এদিন হাওড়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস বলেছেন, হাওড়া জেলা হাসপাতাল সহ সব হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল। কোথাও কোনও সমস্যা ছিলনা। অসুস্থতার কারণে একজন ছাড়া সব চিকিৎসক পরিষেবা দিয়েছেন।পাশাপাশি, এদিন দুপুরে এনআরএসের ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা হাওড়ার বঙ্কিম সেতুর নিচে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ সভা করেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন চিকিৎসকেরা।