স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ২৪ ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসক যাতে সার্টিফিকেট ফিরে পান তা নিশ্চিত করবেন স্বাস্থ্য সচিব, সোমবার মেডিক্যাল বন্ড সংক্রান্ত মামলার রায়ে এমনই নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

মামলার বয়ান অনুযায়ী, বাঁকুড়ার সম্মিলনি মেডিকেল কলেজে দেবাশিস ভট্টাচার্য্য ২০১৪ সালে এমডি (প্যাথলজি পোস্ট গ্রাজুয়েট ) নিয়ে ভর্তি হন। জুলাই মাসে রাজ্য সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলে পাশ করার পর ডাক্তারদের এক বছরের জন্য গ্রামে গিয়ে কাজ করতে হবে।

ডাক্তার দেবাশিস ভট্টাচার্য্য ২০১৭ সালে ডাক্তারি পাশ করেন। ওই বছর রাজ্য সরকার এক বছরের জন্য তাঁকে চুক্তি সই করায়৷ কিন্তু তিনি ইস্তফা দিয়ে দেন বলে খবর৷ সেই সময় রাজ্য সরকার অনেককে ছাড়লেও দেবাশিস বাবুকে ছাড়েনি।

২০১৭ সালে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। ২০১৭ সালে ১৪ই ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে মামলা চলাকালীন রাজ্য সরকার জানায় যেহেতু দেবাশিস বাবু সরকারি চাকুরিজীবি তাই হাইকোর্টে মামলাটি গ্রহনযোগ্য নয়। এটি SAT-এ মামলাটি হবে। এবিষয়ে রাজ্যের হলফনামাও তলব করলে রাজ্য তা দেয়নি ।

এর পর দেবাশিস বাবু উচ্চ শিক্ষার জন্য আবেদন করেন এবং এনআইএমএইচএএনএস সুযোগ পান। কিন্তু সার্টিফিকেট না হাতে পেলে তিনি ভর্তি হতে পারছিলেন না। তাই তিনি বাঁকুড়ার সম্মেলনি মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপালের কাছে ওরিজিনাল সার্টিফিকেটের ফটোকপি চান।

তবে ২০১৭ সালের ২১শে মে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় ওরিজিনাল সার্টিফিকেটের ফটোকপি দেওয়া যাবে না৷ ২০১৮ সালে ফের কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। ৯ই জুলাই প্রথম শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী কল্লোল বসু এবং সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান ২০১৭ সালে বিচারপতি বসাকের এজলাসে রাজ্য সরকার যে তথ্য দিয়েছে তা ভুল৷ কারন ডাক্তার রাহুল বনশালের মামলায় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ পরিস্কার করে দিয়েছে মামলাটি হাইকোর্টে শোনার এক্তিয়ার আছে।

এরপর রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী তপন মুখোপাধ্যায় বলেন তিন বছর সার্ভিস করতে হবে তা না হলে ৩০ লক্ষ টাকার বন্ড জমা দিতে হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ বুধবারের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

সোমবার মামলার শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী কল্লোল বসু এবং আইনজীবী সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান ২০১৪ সালে মামলাকারী পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হয়৷ সেই সময় জমা করা বন্ড অনুযায়ী এক বছর গ্রামে গিয়ে সার্ভিস করতে বাধ্য। না হলে তার বিনিময়ে ১০ লক্ষ টাকা সরকার কে ক্ষতিপুরন দিতে হবে।

কিন্তু সরকারি আইনজীবী তপন মুখোপাধ্যায় হলফনামা জমা দিয়ে বলেন যে ১০ই জুন ২০১৪-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মামলাকারী তিন বছর সার্ভিস বা তার বিনিময়ে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য। যদিও আদালত সরকারের সেই যুক্তি মানেনি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় সমস্ত নথি নিয়ে ফের হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।