স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট ও হলদিয়া: হাসপাতালে রোগী ও তাঁদের বাড়ির লোকেদের তরফে প্রায়শই অভিযোগ তোলা হয় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ চিকিৎসকরা দুর্ব্যবহার করে। রোগীরা চিকিৎসায় অবহেলিত হয়। কখনও বা চিকিৎসকের গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যুর মতো নানান অভিযোগ ওঠে। আর এই অভিযোগে হাসপাতাল, নার্সিংহোম বা চিকিৎসা কেন্দ্রে ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটছে।

এমনকি মারধরেও জড়িয়ে পড়তেও হাত কাঁপেনি রোগী আত্মীয় স্বজনদের। অতি সম্প্রতি তিলোত্তমার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ঘটনায় রাজ্য থেকে এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরেও রীতিমতো আলোড়ন শুরু হয়ে গিয়েছিল। যাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকরা কর্মবিরতির পথেও গিয়েছিলেন। রাজ্যের অন্যান্য হাসপাতালে যখন সেই কর্মবিরতির জেরে রোগীরা অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন।

তখন দক্ষিণ দিনাজপুরের চিকিৎসকরা কিন্তু পরিষেবা স্বাভাবিক রেখে মানবিকতার নজির রেখেছিলেন। এনআরএস হাসপাতালের সেই ঘটনার ঘটনার এক মাসের মধ্যে ফের দক্ষিণ দিনাজপুরের ডাক্তারবাবুরা রোগীর পরিবারের লোকেদের সাথে সৌভাতৃত্বের সম্পর্ক অটুট রাখার উদ্যোগের মাধ্যমে ফের নজির গড়লেন।

সোমবার ছিল ডক্টরস ডে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনটি বিশেষ মর্যাদায় পালন করছেন চিকিৎসকরা। বাংলার রূপকার ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের মৃত্যু দিবস ও ডক্টরস ডে উপলক্ষে একটু অন্যরকমভাবেই দিনটি পালন করলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকরা। আইএমএর উদ্যোগে ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের স্মরণে বিশেষ এই দিনটিকে কাজে লাগিয়ে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসকদের সম্পর্ক আরও নিবিড় করলেন।

এদিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও আলোচনা সভা আয়োজিত হয়। মাল্যদান করেন হাসপাতালের সুপার ডাঃ অমল কৃষ্ণ চৌধুরী ও অন্যান্যরা। শুধু আলোচনা সভাই নয়। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা মুমুর্ষ রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকরা নিজেরাই রক্তদান করলেন।

সেই সঙ্গে হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে সেখানে অসুস্থদের আরোগ্য কামনা করে রোগী ও তাঁদের বাড়ির লোকেদের গোলাপফুল উপহার দেন তাঁরা। একইভাবে চিকিৎসকরা গোলাপফুল তুলে দেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভরতি রোগীদের হাতেও। চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি মানবিক চিকিৎসকদের কাছ থেকে ফুল উপহার পেয়ে আপ্লুত সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ।

হাসপাতালের চিকিৎসক তথা আইএমএ দক্ষিণ দিনাজপুরের সম্পাদক ডাঃ অভিজিৎ ভৌমিক জানিয়েছেন, তাঁরা সর্বদা অসুস্থদের সুস্থ করে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। একাজে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির কারণে রোগীর বাড়ির লোকেরা তাঁদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ব্যবহারও প্রদর্শন করে থাকেন। এই সব ভুল বোঝাবুঝিকে দূরে সরিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মানবিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতেই এদিন রক্তদান ও ফুল উপহার করেন তাঁরা। এদিন হাসপাতালের দশজনেরও বেশি চিকিৎসক রক্তদান করেছেন বলেও আইএমএ সম্পাদক জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, এদিন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে এলো হলদিয়ার একটি চিকিৎসক সংস্থা হেলথ কেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। তাদের উদ্যোগে সোমবার ডক্টর ডেতে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির ও চিকিৎসক, রোগী ও পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সেমিনারের ব্যবস্থা করা হয়।

এদিন হলদিয়ার মঞ্জুশ্রীতে কুমার চন্দ্র জানা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে রক্তদান করেন ৭৫ জন, যার মধ্যে ২০ জন মহিলা এবং ৪৬৫ জন স্বাস্থ্য শিবিরে পরিষেবা গ্রহণ করে। রক্তদান, স্বাস্থ্য পরিষেবা, সেমিনারের পাশাপাশি এদিন দূর্গাচক থানার সিভিক ভলান্টিয়ারদের দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের কিভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায় তার একটি মহড়া দেওয়া হয়।