শেখর দুবে, কলকাতা: হাসপাতালের গেট বন্ধ৷ অসহায় অবস্থায় রোগী ও তার পরিবার৷ কাঁচুমাচু মুখে লোহার গেট ধরে তাদের প্রশ্ন প্রাণ বাজি রেখে এসবের কী প্রয়োজন? জবাব এল কড়া সুরে৷ আর চারটে মেডিক্যাল রয়েছে তো শহরে৷ সেখানে যান৷

উত্তরদাতারা সবাই চিকিৎসক৷ সহকর্মী আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন তারা৷ কিন্তু কথায় যে বলে, চিকিৎসকের আচরণেই রোগ অর্ধেক উধাও হয়৷ এনআরএসের আন্দোলনকারীদের সামনে গেলেই বোঝা যাবে কথার কথা৷ সময় বদলের সঙ্গেই পরিবর্তন হয়েছে মূল্যবোধের৷ দাবি না মিটলে আন্দোলন চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা৷

অন্য চার সরকারি হাসপাতালেও বিধি বাম৷ নীলরতনের জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের আঁচ পড়েছে সেখানে৷ কলকাতা মেডিক্যাল, ন্যাশনাল মেডিক্যাল, আরজিকর, এসএসকেএমের চিকিৎসকরাও প্রতিবাদ আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন৷ তারাও পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা বলছেন৷

সকাল থেকে চলছে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন৷ বেলা বাড়তেই হাসপাতালে যান, স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্প বলেন, ‘‘ঘটনার সময় হাসপাতালে কর্মরত পুলিশ কর্মীদের ভূমিকা সিসিটিভিতে দেখা হবে৷’’হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িকে আরও কঠোর হতে নির্দেশ দেওয়া হয়৷ দুপুরে সেখানে হাজির হন মন্ত্রী চন্দ্রীমা ভট্টাচার্য৷ জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি৷ তবে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি৷

নিরাপত্তাহীনতায় জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ বারংবার তাদের নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে৷ প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকেই হাসপাতালের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ রাতভর এই অবস্থান করা হয়৷

নজিরবিহীন৷ পরিষেবার বদলে হাসপাতাল চত্বরে চলছে একদিকে অবস্থান, অন্যদিকে রোগীর পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসকদের ধস্তাধস্তি৷ হাসপাতালের গেট আটকে রেখেছেন খোদ চিকিৎসকরাই৷ মঙ্গলবার সকাল থেকে এটাই নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিত্র৷

হাসপাতালের গেটের এপারে অবস্থানে অনড় জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ লোহার গেটের ওপারে একরাশ প্রশ্ন নিয়ে রোগী ও তাদের পরিবারবর্গ৷ গেট কেন বন্ধ? প্রশ্ন করতেই আন্দোলনকারীদের উত্তর, আমাদের নিরাপত্তা নেই৷ যতক্ষণ নিশ্চিৎ না হবে ততক্ষণ আন্দোলন চলবে৷ কাতর মুখে ফের প্রশ্ন এপার থেকে আজকেই তো ডেট দিয়েছে ডাক্তার আউট ডোরে৷ তার কী হবে? বেজার মুখে চিকিৎসকদের জবাব, পরে হবে৷

অসহায় অবস্থায় সুদূর সুন্দরবন, ক্যানিং অথবা মালদহ, মুর্শিদাবাদ থেকে আসা রোগীদের অবস্থা৷ কী হবে? তা ভেবেই ক্লান্ত এনআরএসের সামনে অপেক্ষারত রোগীর পরিবারের লোকেরা৷ আশা আউটডোর খুলবে৷ শুরু হবে প্রিয়জনের চিকিৎসা৷