শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: করোনাকে হারিয়ে পরলোক গমন করলেন বালুরঘাটের সমাজসেবী তথা বিশিষ্ট দন্ত চিকিৎসক রামেন্দু ঘোষ। কলকাতার অ্যাপেলো হাসপাতালে ভর্তি থেকে টানা একুশ দিন ধরে তিনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন।

শনিবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর হয়। প্রিয় চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকাহত দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষজন ও চিকিৎসক মহল।

মৃত্যুকালে রামেন্দু ঘোষের বয়স হয়েছিল (৬৩) । তাঁর জন্ম কুমা রগঞ্জ থানার গোপালগঞ্জে। ডাক নাম বলাই হলেও বিভিন্ন মহলে তিনি রামেন্দু দা নামেই সুপরিচিত ছিলেন। পতিরাম হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন। কলকাতার আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাস করেন। জেলায় দন্ত চিকিৎসক হিসেবে ১৯৮২ সালে হিলি ব্লক হাসপাতালে প্রথম যোগ দেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে ২০১৮ সালে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় চাকুরী জীবন থেকে অবসর নেন।

অবসর জীবনেও তিনি প্রাইভেট চেম্বারে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে গিয়েছেন। রামেন্দু ঘোষ শুধু চিকিৎসক হিসেবেই নন। একজন সমাজসেবী ও লেখক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। বন্ধুবান্ধব ও সহযোদ্ধাদের সহযোগে সকাল নামক সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। যার মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা অন্যান্য বিষয়ে অসহায় মানুষদের নিয়মিত সেবার কাজ চালিয়ে গিয়েছেন।

আর উদ্যোগেই জেলার প্রত্যন্ত এলাকা গোফানগরে আশপাশের এলাকার দুঃস্থ অসহায় গ্রামীণ মানুষজনের মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজিত হতো। পাশাপাশি তিনি একজন কৌতুক শিল্পীও ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে জেলার পত্রপত্রিকা গুলিতে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বালুরঘাটের ‘১৯২৮ ক্লাব’এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর জার্নালিস্টস ক্লাবের তরফে ২০১৫ সালে তাঁকে সম্মানীয় সদস্য পদ দেওয়া হয়। ১৯২৮ ক্লাব ইয়ুথ হোস্টেল এসোসিয়েশন ইন্ডিয়া ট্রেকার্স ইউনিট বালুরঘাট ও জার্নালিস্টস ক্লাব ও সকাল’এর সাথে তিনি সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন। সূত্রের খবর বালুরঘাট পুরসভার হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসক ও সমাজসেবী রামেন্দু ঘোষকে বোর্ড অফ এডমিনিস্ট্রেশন মেম্বার করবার পরিকল্পনা নিয়েছিল রাজ্য সরকার।

ভাইপো অরিন্দম ঘোষ জানিয়েছেন কলকাতায় গিয়ে ১ নভেম্বর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। লালারসের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়লে এপেলো হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসায় সারা দিয়ে ১৪ দিন পর দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় করোনা মুক্ত হলেও ফুসফুসের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে যায়। অবশেষে শনিবার রাত্রি দেড়টা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। কলকাতা থেকে মরদেহ দক্ষিণ দিনাজপুরে এনে বালুরঘাট শ্মশানে দাহ করা হবে বলেও ভাইপো জানিয়েছন।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।