স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হলেন এক চিকিৎসক৷ পরিবারের দাবি, অবসরের পরও তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ায় তিনি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন৷ তার জেরে এই ঘটনা৷

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম শৈবালকিশোর রায়(৬১)। বৃহস্পতিবার হাওড়ার উলুবেড়িয়ার গরুহাটার নোনা এলাকায় তাঁর বাড়ি৷ সেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্টে তিনি থাকেন৷

আরও পড়ুন: এপ্রিল থেকেই বালুরঘাটে চালু হচ্ছে বিমান পরিষেবা

ওই অ্যাপার্টমেন্টের নিজের ফ্ল্যাটের বাথরুমে তাঁকে প্রথমে বাড়ির সদস্যরা অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন৷ এর পর তাঁকে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। শৈবালবাবু বাথরুমেই মিউরিয়েটিক অ্যাসিড জাতীয় কিছু খেয়েছিলেন বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন। ওই চিকিৎসকের স্ত্রী তপতী রায়ের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে শৈবালবাবু মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই অবসাদের চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলেই তপতীদেবীর অনুমান।

আরও পড়ুন: মাছ চাষ করে সেরার শিরোপা হলদিয়ার আরতির

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন শৈবালবাবু স্ত্রীকে নিয়ে উলুবেড়িয়ায় থাকতেন৷ তিনি একজন মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৬-২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন। এরপর কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে বদলি হয়ে যান তিনি। সেখান থেকেই গত জানুয়ারি মাসে অবসর নেন৷

আরও পড়ুন: বাঘের আতঙ্কে জ্বরে কাবু মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

অভিযোগ, কিন্তু অবসরের পরেও তাঁকে এক্সটেনশন দেওয়া হয়। এরপর তিনি আরও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অবসরের আগেই তিনি স্বেচ্ছাবসর চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তা অনুমোদন হয়নি। উল্টে অবসরের পরেও তাকে আরও চাকরি করার জন্য এক্সটেনশন দেওয়া হয়। তাঁর একমাত্র পুত্র কর্মসূত্রে আমেদাবাদে থাকেন। দু’মাস আগে তাঁর ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সস্ত্রীক তার ছেলে আমেদাবাদ চলে যান।

এদিন সকালে শৈবালবাবু বাথরুমে যান। দীর্ঘ সময় তিনি বাথরুম থেকে না বেরনোয় তাঁর স্ত্রী তপতীদেবী সকলকে ডাকাডাকি করে দরজা ভেঙে শৈবালবাবুকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: বিজেপি-তৃণমূল ছাড়াও রাজ্যে রাম নবমী পালন করবে সেনা