কলকাতা: করোনা আক্রান্ত হলে সেরে যাওয়ার সম্ভাবানও থাকে। আর সেই সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু ভয় একটাই। যাকে বলে আউটব্রেক। অর্থাৎ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। আর সেটা আটকাতেই প্রশাসনের এত ব্যবস্থা। কিন্তু তারপরও ভয় কাটছে না। কেউ আক্রান্ত হলেই তার আশেপাশের লোকজনের সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যায়।

আর কলকাতায় নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এক চিকিৎসককে ঘিরে। কমান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। তিনি আবার ওই হাসপাতালের অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগের প্রধান। অর্থাৎ মূলত সার্জারির সময়ই কাজ করতে হয় তাঁকে। সুতরাং তিনি যে অনেক রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন, তা স্পষ্ট।

রবিবার তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। জানা যাচ্ছে, মার্চের ১৭ মার্চ দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেছিলেন তিনি। এরপর ১৮ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত হাসপাতালে স্বাভাবিক ডিউটি করেন। অর্থাৎ, যদি দিল্লিতে বা সেখান থেকে আসার পথে এই সংক্রমণ হয়ে থাকে, তাহলে ধরে নেওয়া যায় আক্রান্ত হওয়ার পরও রোগীদের সংস্পর্শে এসেছেন তিনি।

শুধু রোগীই নয়, হাসপাতালের অন্যান্য সহকর্মীদের ক্ষেত্রেও সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই সবাইকেই ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছেল আবার এমনটাও সন্দেহ করা হচ্ছে যে হয়ত কোনও রোগী আক্রান্ত ছিলেন, যাঁর কোনও লক্ষণ ছিল না। তাহলে কোন রোগীর থেকে ছড়াল, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, একই দিনে পরপর তিনজনের শরীরে মিলেছে সক্রমণ। রবিবার আরও দু’জনের শরীরে এই সংক্রমণ মিলল। তৃতীয়জন শেওড়াফুলির বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক।

আপাতত আলিপুর কমান্ড হাসপাতালেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে তাঁকে। তাঁর সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর আত্মীয়দেরও সতর্ক করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে কাজ করা অন্যান্য চিকিৎসকদের, রোগীদেরও সতর্ক করা হচ্ছে।

রবিবারের সন্ধের রিপোর্টে আরও দু’জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ মিলেছে। এদিন সন্ধেয় নাইসেড থেকে যে রিপোর্ট এসেছে তাতে এই তথ্য জানা গিয়েছে।

নাইসেড সূত্রের খবর একজন, একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৪ বছরের এক ব্যক্তি। তিনি ও প্রবল শ্বাসকষ্ট এবং একাধিক উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন তার নমুনা পরীক্ষায় নোবেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মিলেছে।