তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। আর তাই করে দেখালেন এক চিকিৎসক। বাম হাতে লাগানো স্যালাইনের চ্যানেল। অন্যদিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে লম্বা লাইনে দাঁড়ানো রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি সমানে লিখে চলেছেন প্রেসক্রিপশান। আর বুঝিয়ে দিচ্ছেন কখন কোন ওষুধ খাবেন। এতসবের মাঝেই চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন ঐ স্যালাইনের বোতলটার দিকে।

নিজের শারিরীক অসুস্থতাকে উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষকে অবিরাম চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন ডাঃ সুমন সন্নিগ্রহী। বাঁকুড়ার খাতড়ার সিমলা ব্লক প্রাথমিক কেন্দ্রের চিকিৎসক তিনি। আর ব্যতিক্রমী এই ছবিই এখন নেটিজেনদের হাত ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। সেই সব পোষ্টে রীতিমতো লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের বন্যা বইতে শুরু করেছে।

পুরো ঘটনাটি জানার আগে আসুন এই ব্যতিক্রমী চিকিৎসকের সঙ্গে পরিচয়টা সেরে নেওয়া যাক। সিমলাপালের ভূতশহর গ্রামের বাসিন্দা সুমন সন্নিগ্রহীর পড়াশুনা পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে। পরে কলকাতার এস.এস.কে.এম হাসপাতালে এমবিবিএস পাশ ও কর্মজীবন শুরু। আরও পরে প্রত্যন্ত সিমলা গ্রামের এই হাসপাতালে কাজে যোগদান। আর তিনি এখানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এখানকার হাসপাতালের পরিকাঠামোগত ব্যপক উন্নতি ঘটে। সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন হয়ে যান তিনি।

পরে ২০১৮ সালের জুন মাসে তাঁর বদলির নির্দেশ এলে রুখে দাঁড়ান গ্রামের মানুষ। ফল মেলে হাতে নাতে। মাত্র একমাসের মধ্যেই ফের নিজের পুরোনো কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসেন মানবদরদি এই চিকিৎসক। ওই দিন ঠিক কি হয়েছিল যে ডাক্তারবাবুকে স্যালাইন হাতে নিয়েও সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হল?

এবিষয়ে জানতে ডাঃ সুমন ষন্নিগ্রহীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ক’দিন ধরেই হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর প্রচণ্ড চাপ চলছিল। এই ভ্যাপ্সা গরমের মধ্যে টানা কয়েকদিন ডিউটি করার ফলে শরীর এমনিতেই অসুস্থ ছিল। কিন্তু এদিন সকাল থেকেই রোগীর চাপ বাড়ছিল। সেই মুহূর্তে হাসপাতালে অন্য কোনও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।

ফলে গ্রামীণ ঐ সাধারণ মানুষ গুলির মুখ চেয়ে নিজের অসুস্থতাকে উপেক্ষা করেই প্রায় তিনটে পর্যন্ত টানা এই কাজ করে যেতে হয়েছে। আর সেই সময় ডাক্তারবাবুর অজান্তেই উপস্থিত কারো মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি সেই ছবিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। চারদিকে যখন সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে নানান অভিযোগের কথা শোনা যায়, তখন ডাঃ সুমন ষন্নিগ্রহীদের মতো ব্যতিক্রমী মানুষরাও আছেন একথা ভুললে চলবে না।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ