হায়দরাবাদ: ফের আসাদুদ্দিনের তোপের শিকার মমতা বন্দোপাধ্যায়। অল-ইণ্ডিয়া-মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাদুদ্দিন ওয়েইসি সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে ‘বিজেপির সমব্যাথী’র উত্তর দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, মমতা সংখ্যাগরিষ্ঠদের সন্তুষ্ট করছেন এবং ‘তাঁর কাজ করার জন্য’ নির্দেশ দিয়েছেন।

শুক্রবার এই প্রসঙ্গে একটি ট্যুইট করে ওয়েইসি জানিয়েছেন, “আজকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতি আবেদনের চাপ আছে আর সেই জন্যই আমার প্রতি তিনি স্থায়ী এই মন্তব্য করতে পেরেছেন। কিন্তু আপনি দয়া করে আপনি আপনার কাজ করুন এবং পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্বের দ্রুত প্রসারকে রুখে দাঁড়ান। দুষ্কৃতী এবং যারা লড়াই করছেন তাঁদের মধ্যে মিথ্যে সমতা দেখিয়ে কোন লাভ নেই। এই ঘটনা আসলে কাউকেই সাহায্য করছে না।”

আসাদুদ্দিন ওয়েইসি এবং মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাকযুদ্ধের মাঝেই ফের আক্রমণ শানালেন তিনি। মঙ্গলবার, হায়দরাবাদের কিছু নেতা টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে আসছে এবং দাবী করছে তাঁরা মুসলিমদের সমব্যাথী, তাঁরাই আসলে বিজেপির সবচেয়ে বড় ‘বন্ধু এবং এজেন্ট’।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় আরও বলেন, “বাইরে থেকে আসছে এমন নেতাদের বিশ্বাস করবেন না। তাঁরা মুসলিমদের সমব্যাথী হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছেন। বাংলার নেতারাই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। হায়দ্রাবাদের কিছু নেতা টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে আসছে এবং দাবী করছে তাঁরা মুসলিমদের সমব্যাথী, তাঁরাই আসলে বিজেপির সবচেয়ে বড় ‘বন্ধু এবং এজেন্ট’।”

কোচবিহারের জনসভায় অল ইন্ডিয়া মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের(এআইএমআইএম) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসিকে ‘চরমপন্থী সংখ্যালঘু’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই মন্তব্যের পাল্টা টুইট করে আক্রমণ শানালেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায় বঞ্চনার শিকার বলেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে টুইট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন ওয়েইসি।

তিনি লেখেন, ‘এটা কোনও ধর্মীয় চরমপন্থার বিষয় নয়। পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু মুসলিমরা সব থেকে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।’ সোমবার কোচবিহারের একটি কর্মীসভায় ওয়াইসিকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমি বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি যে সংখ্যালঘুদের মধ্যে বেশ কিছু চরমপন্থী রয়েছেন। তাঁরা হায়দরাবাদে নিজেদের আস্তানা বানিয়েছেন। ওদের কথা একদম শুনবেন না।’ এই মন্তব্যের পরের দিনকেই মমতাকে বিঁধে টুইট করেন হায়দরাবাদ নিবাসী ওয়েইসি। রাজ্যে গত লোকসভা ভোটে বিজেপির ক্ষমতা বাড়ার প্রসঙ্গেও তৃণমূলনেত্রীকে কটাক্ষ করেন আসাদুদ্দিন।

টুইটে তিনি লেখেন, ‘দিদি যদি হায়দরাবাদের লোকেদের এত চিন্তিত হন। তবে আপনার শাসিত রাজ্যে বিজেপি কীভাবে ৪২টির ভিতরে ১৮টি লোকসভা আসন পেয়ে গেল?’ কিন্তু, মমতার তরফে সংখ্যালঘুদের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রাজনীতিবিদদের মতে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে সেখানকার হিন্দু ভোটব্যাংক সুরক্ষিত রাখতে মরিয়া তৃণমূল নেত্রী। বাঙালি হিন্দু এবং রাজবংশীদের ভোট পাওয়ার জন্যই এই কৌশল নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেচবিহারের কর্মীসভা থেকেই তৃণমূল সমর্থক ও জনতার উদ্দেশ্যে বিজেপির থেকে সাবধান হতে বলেন মমত। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদে পাস হয়ে গেলেই তাঁদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। হিন্দুরা সুরক্ষিত হয়ে যাবে বলে দাবি করেছিল বিজেপি।