আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই একাধিক ঠাকুরের মূর্তি থাকে। কোনও কোনও সময় তো একই ঠাকুরের নানা ধরনের মূর্তি থাকে আমাদের ঠাকুর ঘরে। কিন্তু এমনটা করা কি আদৌ উচিত? হিন্দু ধর্মে প্রচলিত নানা প্রথায় উল্লেখ আছে, যে বাড়ির ঠাকুরঘরে কী কী ঠাকুর রাখা হবে, কোন কোন জায়গায় রাখা হবে, এসবেরই একটা নিয়ম আছে। এই নিয়মগুলি ঠিক মতো মানা না হলে কিন্তু ভালর থেকে খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷

১. মা দুর্গা, লক্ষী এবং সরস্বতী:
হিন্দু শাস্ত্র মতে এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে ঠাকুর ঘরে এই তিন দেবীর মূর্তি রাখলে পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। অর্থনৈতিক উন্নতিও ঘটে৷ সেই সঙ্গে লোকের খারাপ দৃষ্টি থেকেও বাঁচা যায়৷ কিন্তু এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। তা হল ভুলেও এই তিন দেবীর মূর্তি যেন তিনটে করে ঠাকুর ঘরে না থাকে। যেমন মা দুর্গার তিনটে আলাদা আলাদা ছবি রাখা একেবারেই চলবে না। একই নিয়ম মানতে হবে দেবী লক্ষী এবং সরস্বতীর ক্ষেত্রেও।

২. গণেশের মূর্তি:
বাড়িতে গণপতি বাপ্পার মূর্তি রাখা একান্ত প্রয়োজন। কারণ সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করেন এই ভগবানই তো, তাই না! কিন্তু একথা জানা আছে কি ঠাকুর ঘরে কখনই তিনটে গণেশের ছবি বা মূর্তি রাখা উচিত নয়। কারণ এমনটা করলে খারাপ ভাগ্য পিছু নেয়। সেই সঙ্গে পরিবারের ভিতরে সুখ-শান্তির পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। ওই যে কথায় আছে না কোনও কিছুই বেশ মাত্রায় করা ভাল না। ভগবানের ছবি রাখার ক্ষেত্রে এই আপ্ত বাক্যটি মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন, না হলে কিন্তু…

৩. শিবের মূর্তি:
ভুলেও বাড়িতে দুটি শিব লিঙ্গ রাখবেন না। কারণ হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে এমনটা করলে ভাল কিছু তো হয়ই না, উল্টে একের পর এক খারাপ কিছু ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, হিন্দু মতে বাড়িতে শিব লিঙ্গ রাখতে মানা করা হয়। কারণ এমনটা করলে একাধিক নিয়ম ঠিক মতো মেনে দেবাদিদেবের পুজো করতে হয়। আর যদি এমনটা করতে না পারেন। তাহলে ভালর থেকে খারাপ হয় বেশি। তাই দুটো তো ছাড়ুন একটাও শিব লিঙ্গ বাড়িতে রাখবেন না যেন!আর যদি একান্তই রাখার ইচ্ছা হয়, তাহলে কীভাবে সর্বশক্তিমানের পুজো করতে হবে সে সম্পর্কে জেনে নিতে ভুলবেন না যেন!

৪. কাদের একসঙ্গে রাখা চলবে না:
শ্রী কৃষ্ণ এবং রাধা, শ্রী কৃষ্ণ এবং মিরা, ভগবান কার্তিক এবং তার দুই স্ত্রী বালি এবং দেবসেনা, ভগবান গণেশ আর রিদ্ধি এবং সিদ্ধি, যে ছবি বা মূর্তিতে এরা একসঙ্গে রয়েছেন, তা ভুলেও বাড়িতে বা ঠাকুর ঘরে রাখা চলবে না। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এদের একসঙ্গে রাখলে পরিবারের ভিতরে অশান্তি মাথা চাড়া দিযে ওঠে। সেই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেকার সম্পর্কও খারাপ হতে শুরু করে। তাই এই বিষয়টি মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন।

৫. ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহাদেব:
এই তিন ভগবান হলেন সর্বশক্তিমান, সর্বোত্তম। তাই এদের ছবি বা মূর্তি ঠাকুর ঘরে রাখতে হবে বাকি ভগবানদের ছবির উপরে। না হলে এই তিন ভগবান বেজায় অসন্তুষ্ট হবে। আর এমনটা হওয়া যে পরিবারের সুখ-শান্তির পরিপন্থী তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবেনা।

৬. কোন ঠাকুর কোথায় রাখতে হবে:
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহাদেব, ইন্দ্র এবং সূর্যদেবের আসন পাততে হবে বাড়ির পূর্বদিকে এবং খেয়াল রাখতে হবে তাদের মুখ যেন পশ্চিম দিকে থাকে। এমনটা করা হলে সমৃদ্ধি আপনার পরিবারের সঙ্গ কখনও ছাড়বে না দেখবেন। সেই সঙ্গে সুখ-শান্তির ঝাঁপিও কখনও খালি হবে না। অন্যদিকে গনেশ, দুর্গা এবং কুবের দেবের ছবি বা মূর্তি রাখতে হবে দক্ষিণ মুখি করে। আর যদি বাড়িতে এত জায়গা না থাকে তাহলে খেয়াল করে ঠাকুরের আসন পাতবেন উত্তর-পূর্ব দিক করে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.