শুক্রবার ৮ ডিসেম্বরে পৌষ কৃষ্ণ ষষ্ঠী এবং অশ্লেষা নক্ষত্র৷ এই জন্যই নাকি দেবী ললিতার আরাধনাকে শুভ মনে করা হয়৷ আদি শক্তির অন্যতমও মনে করা হয় এই দেবী ললিতাকে৷

এক পৌরাণিক কথা অনুযায়ী, পিতা দক্ষের করা অপমানের পর মাতা সতী নিজের প্রাণ বিসর্জন দেন৷ এরপর ক্রোধান্বিত হয়ে ভগবান শিব সতীর দেহ নিয়ে তাণ্ডব শুরু করেন৷ যার ফলে সৃষ্টির বিনাশ শুরু হয়৷ ভগবান বিষ্ণু এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য সুদর্শন চক্র দিয়ে মাতা সতীর দেহ ছিন্ন ভিন্ন করে দেন৷ এবং মায়ের দেহের অংশ যে সব স্থানে পড়ে সেই সব স্থানে শক্তিপীঠ গড়ে ওঠে৷

পড়ুন: শিবের পাঁচটি অলৌকিক মন্ত্রেই সফল হবে আপনার জীবন

৫১টি শক্তিপীঠের একটি স্থান দেবী ললিতার স্থান বলে পরিচিত৷ কালিকা পুরাণ অনুযায়ী দেবী ললিতা গৌরবর্ণা৷ মনে করা হয় এই দেবীর পূজার্চনাতে সুখ-সমৃদ্ধি আসে এবং প্রেম আরও গাঢ় হয় বলে মনে করেন অনেকে৷ শুক্রবার সন্ধেবেলা গোলাপী বস্ত্রের ওপর দেবী ললিতার ছবি রেখে ঘি-এর প্রদীপ জ্বালে অনেকে৷ চন্দনের ধূপ, গোলাপ ফুল, আতর এবং ক্ষীরের ভোগ দেওয়া হয়৷

পূজোর পর মা-কে উৎসর্গ করা এই ভোগ কোনও সধবা মহিলাকে দিতে হয়৷ এদিন বিকেল ৫টা ২৫মিনিট থেকে ৬টা ২৫মিনিট পর্যন্তই পুজো করার সময়৷ ঘরে সুখ সমৃদ্ধি নিয়ে আসার জন্য পুজোর সময় আটা দিন৷ পুজোর পর সেই আটা ব্রাহ্মণীকে দেওয়া হয়৷ অন্যদিকে প্রেমে সফলতা পেতে মা ললিতা-কে দই-মধু দিন পুজোর সময় এবং এই ভোগ সাদা গরুকে খাওয়ানো শুভ মনে করা হয়৷

যদিও পুজো-পার্বন নিয়ে অনেক ধরনের মত থাকে৷ থাকে তর্ক-বিতর্ক৷ তাই শুধু পুজো নয়, ঘরে সুখ-শান্তি ধরে রাখার দায়িত্ব বর্তায় মানুষের স্বভাব এবং ইচ্ছের ওপরেও৷

- Advertisement -