ওয়াশিংটন: এক বিন লাদেনকে হত্যা করে সাফল্যের স্বাদ পেয়েছিল আমেরিকা। আর এবার মাস্ট্রারস্ট্রোক দিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকার হাতে বাগদাদী। নিজে সেকথা ঘোষণা করে গোটা বিশ্বকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবার সেই আমেরিকাকে বদলা নেওয়ার বার্তা দিল আইএস।

বৃহস্পতিবার একটি অডিও বার্তা দিয়েছে আইএস। সেই বার্তায় তারা স্বীকার করেছে যে বাগদাদীর মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে আমেরিকাকে হুমকির সুরে বলেছে, ‘বাগদাদিকে মেরে বেশি ফূর্তি কোরো না, আমেরিকা।’ হুঁশিয়ারি দিয়েচ আইএস জানিয়েছে, তারা ইউরোপের দরজায় কড়া নাড়ছে। ক্রমশ তারা বিস্তারলাভ করছে বলেও জানিয়েছে।

ট্রাম্পকে উদ্দেশ্যে করে ওই অডিওবার্তায় এও বলা হয়েছে যে, ‘আপনি কী বুঝতে পারছেন না যে, কীভাবে আপনি হাসির পাত্র হয়ে উঠছেন?’ আমেরিকাবাসীর উদ্দেশ্যে ওই বার্তা বলা হয়েছে, ‘একজন বুড়ো নেতা একটা মতামত নিয়ে ঘুমোতে যায়, আর অন্য একটা নিয়ে ওঠে।’

এদিন, নতুন নেতার নামও প্রকাশ করা হয়েছে। আবু বকর আল বাগদাদির জায়গায় নতুন নেতা আবু ইব্রাহিম আল হাশিমি আল কুরেশির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অডিওতে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বাগদাদির মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছে আইএসের মুখপাত্র আবু হামজা আল কুরেশি।

সম্প্রতি একটি অস্পষ্ট সাদা-কালো ভিডিও সামনে এনেছে পেন্টাগন। গত শনিবার মার্কিন সেনার স্পেশাল অপারেশনের সময় আকাশ থেকে তোলা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে জঙ্গিদের ডেরায় ঢুকে প্রবল গুলিবর্ষণ করছে সেনা। ভিডিওর সবশেষে দেখা যায় বাগদাদির সম্ভাব্য ঠিকানা লক্ষ্য করে মার্কিন সেনার বোমা আঘাত হানতেই কালো ধোঁয়ার সঙ্গে বিশাল আগুনের গোলা আকাশ ছুঁয়ে ফেলছে। এই বিস্ফোরণের সঙ্গেই বাগদাদির বাড়িও মুহূর্তে ধুলোয় মিশে যায়। পেন্টাগন এই ভিডিও প্রকাশ করলেও মার্কিন অভিযানের আংশিক ক্লিপিংসই সংবাদমাধ্যমের সামনে এনেছে তাঁরা।

ইরাকি নাগরিক বাগদাদিকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল আমেরিকা। নিজেকে ‘খলিফা’ বলে প্রচার করা বাগদাদি ক্রমেই জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের প্রধান হয়ে ওঠেন। ২০১৪-এর একসময়ে ইরাক থেকে সিরিয়ার প্রায় অধিকাংশ শহরেই কব্জা বসায় আইএস। কিন্তু জঙ্গি দমন অভিযানে নেমে মার্কিন এবং কুর্দ সেনার যৌথ বাহিনী একে এক করে প্রায় সব শহরই পুনরুদ্ধার করে।

গত সপ্তাহে সিরিয়ার একটি জঙ্গিদের ডেরাকে বাগদাদির সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল হিসাবে চিহ্নিত করে মার্কিন সেনা। আর এরপরেই গত শনিবার অভিযানে নামে তাঁরা।সূত্রের খবর, সেনার থেকে পালাতে গিয়ে এক সুড়ঙ্গে ঢোকেন বাগদাদি। কিন্তু, সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ থাকায় আত্মঘাতী বোমায় নিজেকে শেষ করে দেয় সে। তবে, ইসলামিক স্টেট প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি কি সত্যি মৃত? তা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।