স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নাগরিক আইনের প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদের কৃষ্ণপুর স্টেশনে পাঁচটি ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি৷

ঘটনার পরেই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “মুর্শিদাবাদের মানুষ, আমরা যেন কোনও সংকীর্ণ রাজনীতির ফাঁদে পা দিয়ে না ফেলি ― সেটা দেখবেন। রেল স্টেশন জ্বালিয়ে মানুষের যাতায়াতের সমস্যা তৈরি করা যেতে পারে, বাকি কিছু নয়। মুর্শিদাবাদ জেলা আমাদের সকলের গর্ব ও ভালোবাসার জেলা। সাধারণ মানুষকে বলবো অকারণে উত্তেজনা তৈরি করবেন না।” সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আরও সক্রিয় হোন মুর্শিদাবাদ জেলা নিয়ে।”

এ প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, “রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক মানুষের কাছে আবেদন আন্দোলনের নামে কেউ ধ্বংসাত্মক কাজ করবেন না। কংগ্রেস অহিংস এবং সত্যাগ্রহের পথেই আন্দোলন চালাবে। কংগ্রেসের ব্লকের নেতাদের কাছে অনুরোধ সবাই দলের পতাকা নিয়ে এই অসাংবিধানিক নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এবং বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা করতে লাগাতার আন্দোলনে থাকুন। অস্বাভাভিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে এবং নিম্নগামী অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন।”

শুক্রবারের পর শনিবারও রাজ্যের একাধিক জায়গায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলল। এদিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ অবরোধের কারণে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা পাঁচটি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দিল বিক্ষোভকারীরা।কৃষ্ণপুর স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া পাঁচটি ট্রেনের মধ্যে তিনটি লোকাল ট্রেন রয়েছে। অন্য দুটি হল লালগোলা প্যাসেঞ্জার ও হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস।

জানা গিয়েছে, বিক্ষোভ–অবরোধের কারণে কৃষ্ণপুর স্টেশনে ওই পাঁচটি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। অবরোধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ভিতরে কোনও যাত্রী ছিলেন না। সারাদিনে ট্রেনগুলির উপর কোনও হামলার ঘটনাও ঘটেনি। কিন্তু বিকেল গড়াতেই কয়েক’শ বিক্ষোভকারীরা কৃষ্ণপুর স্টেশনে তাণ্ডব শুরু করে। রেল পুলিশের যে নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন তাঁদের সংখ্যায় তুলনায় এতই কম যে ভয়ে তাঁরাই স্টেশন ছেড়ে পালান বলে অভিযোগ। তারপর একের পর এক ট্রেনের কামরায় আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্যেই অবশ্য দক্ষিণ–পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত হাওড়া থেকে দক্ষিণ–পূর্ব শাখায় কোনও ট্রেন চলাচল করবে না। প্রায় সমস্ত ট্রেনই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর স্টেশনে ডাউন মালদহ কাটিহার লোকাল ট্রেনেও একদল বিক্ষোভকারী এদিন বিকেলে হামলা চালায়।

রাজ্যের এমন পরিস্থিতিতে এ বার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভের নামে বাসে আগুন ধরানো, ট্রেনে পাথর ছোড়া এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।