মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিই বসন্ত পঞ্চমী৷ এই দিন বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনা হয় প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে, স্কুলে, এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে৷ এই শুভ দিনকে বেছে নেওয়া হয়েছে বাচ্চাদের হাতেখড়ির জন্যও৷

এইদিন কামদেবেরও পুজো হয়ে থাকে৷ কিন্তু সরস্বতী পুজোর দিনে বেশ কিছু কাজ বা বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়৷ যদিও সেসব নিয়ে অনেক মতভেদ আছে৷ তাও চলুন, একবার চোখ রাখা যাক সেই ‘বারণে’…

১) এদিন কালো এবং লাল রং-এর পোশাক পরতে নিষেধ করা হয়৷ বসন্ত পঞ্চমীতে হলুদ বা সাদা পোশাকের ওপরই জোর দেওয়া হয়৷

২) এদিন ফসল কাটার কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়৷ বাড়ির কোনও গাছও কাটতে বারণ করা হয়৷ প্রকৃতিও এসময় উৎসবের মেজাজে থাকে, তাই বসন্ত পঞ্চমীতে বৃক্ষরোপণ করলে শুভ হয়৷

৩) সরস্বতী পুজোর দিন ভুল করে কারও সম্পর্কে কোনও খারাপ বা কটু কথা মুখে আনবেন না৷ মনে করা হয় এদিন দেবী সরস্বতী আমাদের জিহ্বায় অধিষ্ঠিত থাকেন৷ পাশাপাশি রাগকেও নিয়ন্ত্রণে রাখুন৷ সকলের সঙ্গে ভালো ব্যবহার এদিন মাস্ট (যদিও সারা বছরই তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত)৷

৪) স্নান করে সরস্বতী বন্দনার পর, দেবীকে ভোগ দিয়ে তবেই খাবার খান৷

৫) বসন্ত পঞ্চমীতে মদ্যপান-মাংস খেতে নিষেধ করা হয়৷ অনেকে ক্ষীর তৈরি করেন এদিন৷

৬) অনেকে এইদিন পোখরাজ এবং মুক্তো ধারণ করেন৷

দেবী সরস্বতীর পুজো নিয়ে বহু কথা প্রচলিত রয়েছে৷ মনে করা হয়, দেবীর প্রথম পুজো করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ এবং ব্রহ্মা৷ দেবী নাকি শ্রীকৃষ্ঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে স্বামীরূপে পেতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ জানান, রাধাই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান৷ তবে তিনি দেবীকে আশ্বস্ত করে জানান, যাঁরা বিদ্যার্থী বা বিদ্যাতে নিমগ্ন তাংরা বসন্ত পঞ্চমীতে দেবীর আরাধনা করলে তা তাদের পক্ষে শুভ হবে৷ এবং দেবীর প্রথম পুজো শ্রীকৃষ্ণই করেন৷