প্যারিস: দেশে সন্ত্রাস বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসাবে বরাবর পড়শি দেশ পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছে ভারত। প্যারিসে ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে যোগ দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস নিয়ে এবার তোপ দাগলেন ইউনেস্কোতে যোগ দেওয়া ভারতের প্রতিনিধি অনন্যা আগারওয়াল। পাকিস্তানেকে সন্ত্রাসের ‘আঁতুড়ঘর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টলমলে অর্থনীতি আর সরকার নিয়ে পাকিস্তান সমস্ত ক্ষেত্রেই ব্যর্থ। সন্ত্রাসের শিকড় পাকিস্তানের অনেক গভীরে প্রবেশ হয়ে আছে। এখন পাকিস্তানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সন্ত্রাস ছেয়ে গেছে।’

রাষ্ট্রসংঘকে পাকিস্তান যেমন ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগারের মঞ্চ হিসাবে বেছে নিয়েছে এই বিষয়েও প্রতিবাদ করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান যেভাবে ইউনেস্কোকে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগারের মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করেছে তা নিন্দার ভাষা নেই।’

অনন্যা মনে করিয়ে দেন ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দুর্বল দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তান ১৪তম স্থানে রয়েছে।

ইউনেস্কোর প্যানেলের সামনে বৃহস্পতিবার পাকনেতা তথা পাকরাজনীতিবিদদের আক্রমণে ঝাঁজরা করে দেয় ভারতের প্রতিনিধি দল।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয় বিশ্বের সন্ত্রাসের অন্যতম ঘাঁটি পাকিস্তানে শুধু নাশকতার আঁধার ছেয়ে রয়েছে। চূড়ান্ত মৌলবাদী মতাদর্শ থেকে নাশকতার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে পাক ভূমি।

পাকিস্তানে যে হারে সন্ত্রাস বাড়ছে সেই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের প্রতিনিধি দল।

কিছুদিন আগেই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘে গিয়ে কার্যত হুমকির সুরে বলেছিলেন, যদি ভারত আর পাকিস্তান সম্মুখ সমরে নামে সেক্ষেত্রে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের এই যুদ্ধ সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

এই প্রসঙ্গে টেনেই বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘে অনন্যা বলেন, ‘পাকিস্তান এমন একটি দেশ যার নেতারা রাষ্ট্র সংঘকে পরমাণু যুদ্ধ এবং অন্যান্য দেশের অস্ত্র তুলে নেওয়ার মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করে।’

এরপরেই ইউনেস্কোর সদস্যদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘যে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জেনারেল পারভেজ মুশারফ বিশ্বে সন্ত্রাসের মুখ নামে পরিচিত ওসামা বিন লাদেন এবং হাক্কানির মত লোকদের পাকিস্তানের নায়ক বলেন সেই দেশের রাজনীতিবিদদের কীভাবে বিশ্বাস করা যাবে?’

শুধু সন্ত্রাসই নয়, পাকিস্তানে ঘটে চলা সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন অনন্যা।

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার সময় অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ২৩% ছিলেন সংখ্যালঘুরা। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩%। পাকিস্তানে মূলত হিন্দু,শিখ,ক্রিশ্চান,আহমদিয়া,শিয়া,সিন্ধি এবং বালোচিদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন কালা কানুন,নির্যাতন এবং জোর করে ধর্মান্তকরণের ঘটনাও ঘটছে।’

পাক মহিলারাই সবথেকে বেশি নির্যাতনের শিকার দাবি করে অনন্যা জানান, ‘মেয়েদের প্রতি হিংসার ঘটনা পড়শি দেশে উত্তোরত্তর বেড়ে চলেছে। সম্মান রক্ষার্থে খুন,অ্যাসিড আক্রমণ, বাল্যবিবাহ, জোর করে বিয়ে দেওয়া এই সবই পাকিস্তানে হু হু করে বাড়ছে।’

পাকিস্তান যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলে তা যে সম্পূর্ণ মিথ্যে তা প্রতিটা দেশের কাছেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি।

সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করা এবং পাক ভূমিকে সন্ত্রাসের জন্য ব্যবহার করার জন্য ইউনেস্কো থেকে পাকিস্তানের সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানান ভারতের এই প্রতিনিধি।