কলকাতা:  চিনা হামলাতেও কদর কমেনি প্রদীপের৷ জেন-ওয়াই যুগে বৈদ্যুতিক বাতির বাড়-বাড়ন্ত হলেও, ম্লান হয়নি সলতে পাকানো প্রদীপের আলো৷ কমেনি চাহিদাও৷ আলোর উৎসব দীপাবলিতে এখনও আগের মতোই প্রদীপের বাজার অটুট বলেই দাবি করেছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা৷ ফলে উৎসব পাগল বাঙালি যেমন ভিড় করছেন মধ্য কলকাতার চিনা বাজারে, তেমনি পরম্পরা বজায় রাখতে ছুটে যাচ্ছেন কুমোরপাড়াতেই৷ গত কয়েকদিনের কুমোরপাড়ার প্রদীপের বাজার কিন্তু সেই কথায় বলছে, তাই বিদ্যুতের  আলোর কাছে কোনওমতেই হার মেনে নেননি মৃৎশিল্পীরা৷

তাঁরা বলছেন,  টুনি-এলইড বাল্বের প্রতি মানুষের ঝোঁক যতই বাড়ুক না কেন, মাটির প্রদীপের কদর ও চাহিদা ঠিক আগের মতোই৷ কালীপুজো, দীপাবলি কিংবা বাঙালির  অন্দরমহলে ঢুকে পড়া ধনতেরাস  মানেই আলোর উৎসব৷ এই তিন উৎসবের সঙ্গে আলোর আর মাটির প্রদীপের সম্পর্ক যুগ-যুগান্তের৷ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের ঝোঁক বেড়েছে বৈদ্যুতিক আলোর প্রতি৷ প্রযুক্তির হাত ধরে বাজারে এসেছে রকমারি বৈদ্যুতিক আলো৷ যার প্রায় পুরো আলোর বাজারটাই দখল নিয়েছে ‘মেজ ইন গাজিয়াবাদে’র চিনা আলো৷

কলকাতার চাঁদনিচক লাগোয়া চিনা বাজারের বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, চিনের তৈরি আলো বলে ক্রেতাদের সামনে মেলে ধরা  বিভিন্ন  ধরনের আলো সাজিয়ে রাখা হলেও, আদতে তার প্রায় সবটাই তৈরি দিল্লি লাগোয়া গাজিয়াবাদে৷ গত কয়েক বছর ধরে এই ‘মেজ ইন গাজিয়াবাদে’র চিনা আলোর বাড়-বাড়ন্ত দেখে কুমোরপাড়ায় জোর ধাক্কা লেগেছিল মৃৎশিল্পীদের মনে শঙ্কা জেগেছিল, তবে কি তাঁদের দিন ফুরিয়ে এল? দীপাবলির রাতে কি নিভতে চলেছে সলতে পাকানো মাটির প্রদীপের আলো?

সমস্ত শঙ্কা কাটিয়ে আশার আলো শোনা যাচ্ছে কুমোরপাড়ার আবাসিকদের সূরে৷ কুমোরপাড়ার এক শিল্পী গৌবিন্দ পাল বলছেন, ‘‘চিরাচরিত প্রথাকে আঁকড়ে থাকতেই অভ্যস্ত বাঙালি৷ তাই, এখনও এতটুকু কদর কমেনি মাটির প্রদীপের৷ তবে, আগের মতো একচেটিয়া বাজার না থাকলেও, এই বছর মাটির প্রদীপ বিক্রিতে সামান্যটুকু ভাটা পড়েনি৷’ কালীপুজোর হপ্তাখানেক আগেই কুমোরপাড়ায় মাটির প্রদীপ বিক্রির হার সেই তথ্যই বলছে৷

কুমোরপাড়া আর এক মৃৎশিল্পী  অননত পাল জানালেন, এখনও পর্যন্ত কুমোরটুলি থেকে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক মাটির প্রদীপের জোগান দেওয়া হয়েছে৷ শুধু কলকাতা মহানগরই নয়, কুমোরটুলির  মৃৎশিল্পীদের হাতে গড়া প্রদীপ ছড়িয়ে পড়েছে শহরতলি, জেলা শহর এবং রাজ্যের বাইরেও৷ দু’দিন বাদেই দীপাবলি৷ এখনও পাইকারি হারে প্রদীপ বিক্রি হচ্ছে৷ তাই তাঁর অভয়বার্তা, চিনা লাইটের বাড়-বাড়ন্ত হলেও, এখনও থাবা বসাতে পারেনি কুমোরটুলিতে৷ তিনি বললেন,  ‘কালীপুজোর আগের রাতে বংশের বাতি দেওয়ার জন্য মাটির প্রদীপেই ভরসা বাঙালির৷ মাটির প্রদীপের চাহিদা ঠিক আগের জায়গাতেই রয়েছে৷ তাই বংশের ব্যবসায় এতটুকু প্রভাব এখনও পড়েনি৷’