স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থাকলেও দেখা নেই কর্মীদের। কোথাও আবার নেই কোনও ঘর বা মাথার উপরের চালা। খাতায় কলমে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ হলেও বাচ্চাদের নেই কোনও শারীরিক উন্নতি। কোথাও আবার রেশন দোকান থাকলেও সেখানে নিয়মিত আটা বা কেরোসিন দেওয়া হয় না। কোনও কোনও স্কুলে শিক্ষিকাদের জন্য নেই আলাদা টয়লেট। ছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেট থাকলেও সেখানে ঢুকতে পারেনা কেউ।

কোথাও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে অথচ সেখানে নেই কোনও প্যাথলজিস্ট। বিরোধী দলের কেউ অথবা জনগণের তরফে কেউ নয়। তথ্য প্রমান সহ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে এমনই সব অভাব অভিযোগগুলি তুলে ধরলেন খোদ জেলাপ্রশাসনের আধিকারিকরা। এক পক্ষকাল ব্যাপী পরিদর্শন অভিযানে তাঁরা বেরিয়ে নিজে চোখে দেখে আসা এই সমস্ত অভাব অভিযোগ ও খামতি গুলি সরাসরি জেলাশাসকের সামনে তুলে ধরলেন।

আইসিডিএস থেকে শুরু করে একশো দিনের কাজ ও প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার সহ সরকারি প্রকল্প গুলির হালহকিকত জানতে পরিদর্শন অভিযানে বেরিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের সমস্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটিম্যাজিস্ট্রেটরা। জেলার ৬৪টি পঞ্চায়েত ও তিনটি পুরসভা এলাকাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। জেলাশাসকের নির্দেশে ১ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে এক এক জন আধিকারিক বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় চলা সরকারি প্রকল্পগুলি পরিদর্শন করেন। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত অফিস স্কুল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গিয়ে সেখানকার বাস্তব চিত্র চাক্ষুস করেছেন।

পরিদর্শন অভিযানের অন্যতম লক্ষ্যই ছিল সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বা বিভিন্ন দফতরের কাজকর্ম যথাযথ ভাবে হচ্ছে কি না। সরকারি প্রকল্পগুলোর সুবিধার সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে পাচ্ছেন কিনা। ১৫ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের সেই পরিদর্শন শেষে আজ তাঁরা দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক তিন অতিরিক্ত জেলাশাসক ও দুই মহকুমাশাসকের সামনে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাস্তব চিত্র ও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন।

এদিনের রিভিউ মিটিংয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সাহা জানিয়েছেন যে, তিনি হরিরামপুর ব্লকের বৈরহাট্টা ও বাগিচাপুর দুটি পঞ্চায়েত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। সেখানে তাঁকে ঘেরাও এবং বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছে। ব্লকের জয়ন্তি কলোনি এলাকায় আইসিডিএস সেন্টার থাকলেও তা নিয়মিত খোলা হয় না এবং গর্ভবতী মা ও শিশুরা খাবারও ঠিক মত না পাওয়ায় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

বংশিহারী ব্লকের এলাহাবাদ পঞ্চায়েত এলাকা পরিদর্শনকারী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ব্রিটল লেপচা জানিয়েছেন যে ওই এলাকায় ২০১৭ সালের বন্যায় টাঙ্গন নদীর বাঁধ ভেঙ্গে মৃত্যু ও প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই বাঁধ আর মেরামত করা হয়নি। পাশাপাশি ওই এলাকায় বিষাক্ত সাপের উপদ্রব রয়েছে। প্রতিবছর প্রচুর সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটে।

এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও সেখানে এন্টিভেনাম না থাকায় সাপে কাটা রুগিকে যেতে হয় ব্লক অথবা মহকুমা হাসপাতালে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এএনএম নার্সদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেখানে এন্টিভেনাম রাখা হলে সকলের সুবিধা হয়। এদিকে আরেক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নির্মিতা সাহা জানিয়েছেন, তিনি মালঞ্চ পঞ্চায়েত এলাকার একটি হাইস্কুলে গিয়ে দেখেন সেখানে শিক্ষকদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন শিক্ষিকাও রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের জন্য মহিলা টয়লেট আলাদা ভাবে নেই। ছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেট থাকলেও তা পরিস্কারের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় কেউ ব্যবহার করতে পারে না।

এব্যাপারে জেলাশাসক নিখিল নির্মল জানিয়েছেন যে, পরিদর্শন অভিযানের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরের বিভিন্ন অফিস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলিতে ঠিক মত সাধারণ মানুষকে পরিসেবা দেওয়া হচ্ছে কি না তা জানা। আচমকা এই পরিদর্শনে বেশ কিছু অভাব অভিযোগ উঠে এসেছে। পাশাপাশি এমনও অনেক এলাকার ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে সরকারি প্রকল্পের কাজ একশ শতাংশ সঠিক ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ