স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: নভেম্বর মাস থেকে সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান কিনছে রাজ্য সরকার। জলপাইগুড়ি জেলায় ব্লকে ব্লকে ধান কেনা হলেও বেশ কিছু সমস্যায় সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে জরুরি বৈঠক করলেন জেলা শাসক শিল্পা গোরীসারিয়া।

শুক্রবার বিকেলে জেলা সভাধিপতি, মহকুমাশাসক, জেলায় বিধায়ক, বিডিও সহ খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন জেলা শাসক।

জেলায় ব্লক গুলিকে শিবির করে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করা কাজ শুরু করা হলেও বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। ধানের মধ্যে প্রচুর ধুলো। তাতে সমস্যায় পরছে রাইস মিল গুলি। সমস্যা সমাধানে বাড়তি নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলার উৎপাদন ধান জেলাবাসীকেই রেশনের মাধ্যমে দেওয়া হবে এই লক্ষ্য নিয়েই সরকার ধান ক্রয় শুরু করেছে। সরকার আগের বছর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ১,৫৫০ টাকা কুইন্টাল প্রতি ক্রয় করেছে। এবছর তা বাড়িয়ে ১,৭৫০ টাকা করা হয়েছে। এতে কৃষকরা যথেষ্ট লাভবান হবে বলে আশাবাদি সরকার।

খাদ্য দফতর ও সরকার চাইছে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন দালাল চক্র যেন কাজ না করে। সরাসরি কৃষক জমির ধান সরকারকে বিক্রি করুক। এই কারনে জেলার ব্লক ধরে ধরে একাধিক শিবির করে ধান ক্রয় শুরু করছে সরকার। সরকারের ধান ক্রয় করার ক্ষেত্রে ফোরেরা যেন কৃষকদের ভুল বার্তা না সেই বিষয়টি নজর রাখা হচ্ছে।

কৃষকেরা ধান বিক্রি করার পর সেই টাকা তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন। কিন্তু এক শ্রেনীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাতে টাকা দিলে তাদের সুবিধে হয়। অ্যাকাউন্টে টাকা দিলে তারা সমস্যায় পরেন। যদিও সরকারের দাবি ধান কেনায় ক্ষেত্রে সচ্ছতা রাখতেই চেকের মাধ্যমের ধান বিক্রির টাকা দেওয়া হচ্ছে।

ধূপগুড়ি বিধায়ক মিতালি রায় বলেন,”আগে বাইরের থেকে চাল নিয়ে এসে রেশন ও স্কুলের মিড ডে মিলে দেওয়া হত। আমরা চাইছি জেলার কৃষকদের ধান রাইস মিলের মাধ্যমে জেলাবাসী কাছে পৌঁছে যাক। এই কারনেই আজকে এই বৈঠক”।

জেলা শাসক শিল্পা গোরীসারিয়া বলেন,”জেলাতে ১লা নভেম্বর থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। কিন্তু বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে। আজকে বৈঠক করে সেই সমস্যা সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”।