বেঙ্গালুরু : সোমবার ইয়েদুরাপ্পা সরকারের আস্থা ভোট। তার আগে কর্নাটক বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। রবিবার জেডিএস-কংগ্রেসের ১৪ বিদ্রোহী বিধায়ককে বহিষ্কার করেছেন স্পিকার আর রমেশ কুমার। যা নিযে অবশ্য প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কংগ্রেস। কর্নাটক রাজনীতিতে নাটক অব্যাহত। স্পিকার পদে রমেশ কুমার তাকবেন কিনা তা নিযে নানা জল্পনা।

কিন্তু, তার মাঝেই ১৪ বিদ্রোহী বিধায়ককে বহিষ্কারের মতো কড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তিনি। আস্থা ভোটতো বটেই, এমনকি চলতি বিধানসবার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর ভোটে লড়তে পারবেন না বহিষ্কৃত বিধায়করা। ফলে আগামীকালের আস্থাভোটেও অংশ নেবেন না তাঁরা। ফলে ম্যাজিক ফিগার কমে দাঁড়াল ১০৫। যা রয়েছে ইযেদুরাপ্পা সরকারের। বহিষ্কৃত ১৪ জন বিধায়ক বিধানসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই সংকটে পড়ে ছিল কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার।

কিন্তু, সেসময় তাদের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেননি স্পিকার। আস্থা ভোটের সময় এদের বিধানসভায় উপস্থিত থাকার জন্য হুইপ জারি করে ছিল কংগ্রেস এবং জেডিএস। যদিও তাতে কাজ হয়নি। উপস্থিত হননি বিদ্রোহী বিধায়করা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে পতন হয় কুমারস্বামীর সরকারের। বহিষ্কারের আগে বিধায়করা সশরীরে স্পিকারের সামনে হাজির হওয়ার জন্য সময়সীমা চেয়েছিলেন। তাতে কর্ণপাত করেননি স্পিকার। নিয়ে ফেলেন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত। যদিও, স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার রাস্তা খোলা রয়েছে বহিষ্কৃত বিধায়কদের।স্পিকারের সিদ্ধান্তে খুশি হাত শিবির।

কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া ট্যুইটে জানান, ‘স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত স্বাগত। যারা গোটা দেশজুড়ে যেসব জনপ্রতিনিধি বিজেপির ফাঁদে পা বাড়িয়েছে তাদের কাছে এই সিদ্ধান্ত কড়া বার্তা।’এদিকে সোমবার আস্থাভোটে নাকি পদ্ম শিবিরকে সমর্থন জানাতে পারে কুমারস্বামীর জেডিএস। তা নিযে দক্ষিণী রাজ্যে তরজা তুঙ্গে। তবে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এইসব অপপ্রচার চলছে। কুমারস্বামীর কথায জেডিএস-কংগ্রেস জোট অটুট রযেচে।

যদিও, রবিবার তাঁর মন্তব্যেই এই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল আগামী উপনির্বাচনে হাত ধরেই কি চলবে জেডিএস ? বিতর্কে ইন্ধন দিয়ে জানিয়েদেন, ‘সময় বলবে সে কথা।’ যা পরিস্থিতি, সোমবারের আস্থা ভোটে স্বস্তির গন্ধ পেতে শুরু করেছে বিজেপি। অতীতে কথা স্মরণ করে মুখে না ফুটলেও মনে মনে অনন্দের রেশ ইয়েদুরাপ্পার।