মৌমিতা পোদ্দার, কলকাতা:  করোনা অতিমারীর থাবায় দেশে রোজই নতুন সংক্রমণের রেকর্ড গড়ছে। মারণ করোনা কোথায় গিয়ে থামবে তার হিসেব এখনও পর্যন্ত অজানা রয়েছে বিজ্ঞানীদের কাছে। গত পাঁচ দিন ধরে দৈনিক নতুন সংক্রমিতের সংখ্যার নিরিখে আমেরিকা ও ব্রাজিলকে টপকে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে ভারত।

এই অবস্থায় করোনা মহামারী রুখতে কোন দেশ আগে ভ্যাক্সিন আনবে সেই প্রতীক্ষায় চাতকের মতো চেয়ে রয়েছে গোটা পৃথিবীর মানুষজন। ভারত সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বাজারে ঠিক কবে ভ্যাক্সিন আসতে পারে তা এখনই নিশ্চিত ভাবে বলা মুশকিল। তবে যতদিন না পর্যন্ত এই রোগের কোনও প্রতিষেধক বের হচ্ছে ততদিন করোনা বধে আমজনতার মাক্স,পিপিই, গ্লাভস বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

যদিও ব্যবহৃত মাক্স,পিপিই যেখানে সেখানে ফেললে এর থেকে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এগুলির ব্যবহার অত্যন্ত সচেতন ভাবে করতে হবে। তবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীদের এই ব্যবহৃত পিপিই ফেলে না দিয়ে তা বায়োফুয়েলে রূপান্তরিত করা যেতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্রে এমনটাই দাবি জানিয়েছেন একদল ভারতীয় বিজ্ঞানী।

‘বায়োফুয়েলস’ নামক জার্নালে প্রকাশিত সমীক্ষায় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘পাইপোলাইসিস’ নামক উচ্চ তাপমাত্রার রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে অব্যবহৃত পিপিইর কয়েক বিলিয়ন আইটেমকে প্লাস্টিক থেকে বায়োফুয়েলে রূপান্তর করা যেতে পারে।

উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অফ পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এনার্জি স্টাডিজের’ শীর্ষস্থানীয় লেখিকা স্বপ্না জৈন তাঁর একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, “জৈব ক্রুডে রূপান্তরিত এক ধরণের সিন্থেটিক জ্বালানী পরিবেশের উপর কোনও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে না।

বরং এটি মানবজাতি তথা পরিবেশে নতুন এক শক্তির উৎস হবে। ” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গোটা বিশ্বই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে। যারফলে অর্থনৈতিক সঙ্কট সহ বাস্তুসংস্থানগত ভারসাম্যহীনতার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। করোনার হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে ধসে যাচ্ছে অর্থনীতি। ঘাটতি পড়ছে রাজকোষে।

এই অবস্থায় কীভাবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা যায় সেই দিকটায় সবার প্রথমে আমাদের দেখতে হবে। আর এক্ষেত্রে বর্তমানে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পরিষেবা দিতে প্রচুর পিপিইর ব্যবহার হচ্ছে। যেগুলি ব্যবহারের পর ফেলে না দিয়ে জৈব রাসায়নিক পদ্ধতিতে বায়োফুয়েলে রুপান্তরিত করা যেতে পারে।

যারফলে কিছুটা হলেও আমাদের শক্তির চাহিদা মিটবে। ঘুচবে আর্থিক সংকট। গবেষকদের মতে, এই প্লাস্টিকের উপকরণ গুলি যখন পরিবেশে ফেলে দেওয়া হয় তখন সেগুলি নানাভাবে মাটিতে অথবা জলে গিয়ে পড়ে। আর এই প্লাস্টিকে এমন কিছু উপাদান থাকে যেগুলি পরিবেশ থেকে পুরোপুরি নিমূর্ল হতে কয়েক দশক লেগে যায়।

সেক্ষেত্রে এই ব্যবহৃত পিপিই পরিবেশে ছুঁড়ে ফেলে পরিবেশ দূষণ না ঘটিয়ে তা থেকে বায়োফুয়েল উৎপাদন করা অনেক শ্রেয়। এতে যেমন পরিবেশের কোনও ক্ষতি হবে ঠিক তেমনই জৈব শক্তির চাহিদা বাড়বে। এই সমীক্ষায় বিজ্ঞানীরা পিপিই এবং পলিপ্রোপিলিনের সামগ্রী গুলিকে জৈব জ্বালানীতে রূপান্তরিত করেছে।

তাঁরা পলিপ্রোপিলিনের কাঠামো, পিপিই’এর উপযুক্ততা এবং প্লাস্টিকের উপাদানগুলিকে পুনর্ব্যবহার করার পদ্ধতিগুলিও দেখিয়েছেন। তাঁদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে, বিজ্ঞানীরা পিপিই বর্জ্যকে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে ব্যবহার করে জ্বালানীতে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আর এই পাইরোলাইসিস পদ্ধতিটি হল, অক্সিজেন ছাড়াই এক ঘন্টার জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উচ্চ তাপমাত্রায় প্লাস্টিক ভাঙার একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের দাবি, পাইরোলাইসিস হল সর্বাধিক ব্যবহৃত রাসায়নিক পদ্ধতি। যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে বায়ো-অয়েল উৎপাদন করার ক্ষমতা।

যা সহজেই বায়োডেজেডেবল হয়। শুধু তাই নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সবসময় একটি বিকল্প জ্বালানীর প্রয়োজন হয়। আর প্লাস্টিকের এই পাইরোলাইসিস আমাদের জ্বালানি সংকট প্রশমিত করার অন্যতম একটি উপায়।

গবেষকদের আরও দাবি, পিপিই’র বর্জ্য থেকে আমাদের শক্তির চাহিদা অনেকটাই মিটবে। এছাড়াও পিপিই কিট থেকে তরল জ্বালানীর সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। প্লাস্টিক থেকে উৎপাদিত তরল জ্বালানী পরিষ্কার এবং জীবাশ্ম জ্বালানীর সমতুল্য এই জ্বালানী।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।