মুম্বই: তদন্ত থেকে উঠে আসছে প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় বেশ চিন্তিত ছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত।  সুশান্তের বন্ধু স্মিতা রিপাবলিক টিভির কাছে জানিয়েছেন, দিশার মৃত্যুর পরে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন সুশান্ত। তিনি ভাবতেন দিশার মৃত্যুতে তাঁকে জড়ানো হবে। তারপর এই প্রশ্ন উঠছে দুজনের মৃত্যুর মধ্যে কি রয়েছে কোনো যোগসূত্র। যদিও দিশা সালিয়ানের মা জানিয়েছেন তাঁর মেয়ের মৃত্যু ও সুশান্তের মৃত্যুর মধ্যে কোনও যোগ নেই।

দিশার মা আরও জানিয়েছেন যে তদন্তে সহযোগিতা করতে তিনি রাজি আছেন। এমনকি তাঁর মেয়ের মৃত্যুকেও যদি তদন্ত করা হয় তাতে কোনো সমস্যা নেই তাঁর। কিন্তু মেয়ের মৃত্যু যন্ত্রণা আরো একবার নতুন করে পেতে চান না তিনি।

জি নিউজ এর কাছে সাক্ষাৎকারে দিশার মা বলছেন, “ওর মৃত্যুর সঙ্গে সুশান্তের কোনো যোগ থাকতেই পারে না। দিশা কখনোই সুশান্তর নাম নেয়নি। আমরা এটাও জানতাম না যে ও সুশান্তের ম্যানেজার। আমরা অনেক পরে জানতে পারি সেটা, যখন ও একবার বলেছিল কারোর সঙ্গে সুশান্তের বাড়ি গিয়েছিল। কারো সঙ্গে একবার দেখা হওয়ার সঙ্গে কিভাবে মৃত্যুর যোগাযোগ থাকতে পারে? খুব অল্প সময়ের জন্য ও সুশান্তের ম্যানেজার ছিল।”

তিনি জানিয়েছেন দিশা দু’বছর অভিনেত্রী ঐশ্বর্য রাই এর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। দিশার মা বলছেন, ঐশ্বর্যর সঙ্গে তিনটি ছবি- জজবা, অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল এবং সরবজিতের জন্য কাজ করেছিল দিশা। রণবীর কাপুরের বিয়ের অনুষ্ঠান ম্যানেজ করতে বলা হয়েছিল দিশা কে। সেটা নিয়ে তিনি একটু চিন্তিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন দিশার মা। যদিও পরে সেই কাজটি নিয়ে কথাবার্তা আর এগোয়নি তার সঙ্গে।

দিশার মা বলছেন, “ও বাড়িতেই ছিল। নিজের জন্মদিনটাও পালন করতে পারল না। ও সারাদিন কাজ করতো। ‌লকডাউনে কাজ নিয়ে একটু চিন্তিত ছিল দিশা। কিন্তু আমি জানতাম না যে ও অবসাদে ভুগছে। ও জীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্ত আনন্দ করে বাঁচতে ভালোবাসতো এবং ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতো।” দিশার মা অস্বীকার করেছেন যে তাঁর মেয়ে অবসাদে ভুগছিলেন। তিনি বলছেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে ও আত্মহত্যায় মারা যায়নি। ও খুব সাহসী মেয়ে ছিল। জানিনা শেষ পর্যন্ত ঠিক কী হয়েছিল। আমরা ওর বিয়ের বিষয়ে কথা বলছিলাম।”

দিশার সঙ্গে শেষ কথা বার্তা নিয়ে তার মা বলছেন, “ও বলেছিল ওর বন্ধুরা এসেছে আর তাদের জন্য রান্না নিয়ে খুব ব্যস্ত। ওর বন্ধুদের তো সন্দেহ করতে পারিনা। ওরা সেই স্কুলের সময় থেকে বন্ধু। আমরা কাউকে সন্দেহ করছি না। গোটা লকডাউন ও বাড়িতেই ছিল। শুধু একদিন ওর ফিয়ন্সের শোয়ের শ্যুটে গিয়েছিল ও। ও খুবই খুশি ছিল। ওকে দেখে চিন্তিত মনে হয়নি।”

প্রশ্ন উঠেছিল দিশার পরিবারকে কি হুমকি দেওয়া হচ্ছে? সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দিশার মা। তিনি বলছেন, “আমি কোন কিছু ভয় পাই না। আমি আমার মেয়েকে আর ফিরে পাবো না। আমার কী হবে সেই নিয়ে আমি একটুও ভীত নই। আমি মরে গেলেও আমার জীবনের কোনো মূল্য নেই। দিশা আমার ভবিষ্যৎ ছিল। আর ও এখন নেই। তাই ওর ব্যাপারেও আর চিন্তিত নই। আমাদের জীবনে আর খারাপ কী হতে পারে?”

দিশার মৃত্যু নিয়ে আর বেশি কাটাছেঁড়া চান না তার মা। নিউজ চ্যানেলে তাঁর মেয়ের সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের তথ্য উঠে আসছে দেখে বিরক্ত বোধ করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে তদন্তে যদি কোন কাজ হয় তাহলে সহযোগিতা করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা