মুম্বই: সেটা ২০১৬ সালের ঘটনা৷ মাত্র ৫০০টাকা হাতে নিয়ে অচেনা মুম্বই শহরের মাটিতে পা রেখেছিলেন তিনি৷ তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে অবশ্য নিজেকে হারিয়ে যেতে দেননি৷ মন থেকে পেশার প্রতি দায়িত্ববান হওয়ার দৌলতে তড়তড়িয়ে উর্ধমুখী হয়েছে তাঁর সাফল্যের মিটার৷ ফলে দু’বছরের ব্যবধানে ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাট-গাড়ির মালকিন দিশা পাটানি৷ এরই মধ্যে দুটি ব্লকবাস্টার সিনেমা তাঁর ঝুলিতে!

আট থেকে আশি সকলের উন্মাদনা এই অভিনেত্রীকে ঘিরে৷ দেখে বোঝা দায়: চারিদিকে বাজিমাত করা এই অভিনেত্রী কি না মাত্র ৫০০ টাকা পুঁজিকে সম্বল করে স্বপ্নের নগরীতে পা রেখেছিলেন৷ ‘বাঘি টু’ ছবির সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে নিজেই এই তথ্য সামনে এনেছেন হিরোইন৷ কথায় কথায় দু’বছর আগের স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন দিশা পাটানি৷ বলেছেন, ‘‘যখন এই শহরে পা রাখি তখন আমার সম্বল বলতে ছিল মাত্র ৫০০ টাকা! বলিউডে কেরিয়া শুরুর প্রথম দিককার দিনগুলোয় কত যে বাধা অতিক্রম করতে হয়েছিল৷’’

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তণ্বী হিরোইন বলতে থাকেন, ‘’ছোট থেকেই ‘অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম৷ সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলাম৷ কলেজ ড্রপআউট হয়ে অচেনা অজানা শহরে এসে নিজেকে সামলানোটা খুব কঠিন ছিল আমার কাছে৷ বাড়ি ভাড়ার টাকা মেটানোর জন্য চাকরি জোগাড় করি৷ এমনও হয়েছে যে একটা সময় আমার কাছে একটা পয়সাও ছিল না!”

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হিরোইন দাবি করেছেন: ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকার ফলে একের পর এক রিজেকশনের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে৷ তবে কখনও নিজের মনোবল হারাননি৷ ফলে এখন বলিউডে নিজের একটা পাকাপোক্ত জায়গা বানিয়ে ফেলেছেন দিশা৷

তবে আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগতে নারাজ নায়িকা৷ বরং চলার পথে অভিজ্ঞতা থেকে এখন তিনি একটু বেশিই সতর্ক৷ দিশার কথায়, ‘‘আমরা কেউই ভবিষ্যত দেখিনি৷ ফলে এই মুহূর্তে আমি বলতে পারব না, যে আমার আগমী ছবিগুলি কেমন হবে৷ পরবর্তীকালে আমায় কেউ কাজ দেবেন কি না৷ আমি আমার পেশাটাকে মন থেকে ভালোবাসি৷ স্যুটিং ফ্লোরে সবসময় চেষ্টা করি নিজেকে ১০০ শতাংশ উজাড় করে দিতে৷ ছবির স্বার্থে সবসময় চরিত্রটার ভিতরে ঢুকে কাজ করার চেষ্টা করি৷ এক্ষেত্রে আমি কোনও খামতি করি না৷ সুযোগ পেলেই নিজেকে ষোলো আনা প্রমাণ করার চেষ্টা করি৷’’

‘বাঘি টু’ তে তিনি নায়িকা হলেও সিকোয়েল ছিলেন শ্রদ্ধা কাপুর৷ শ্রদ্ধার স্ক্রিন প্রেজেন্স ছিল অসাধারণ৷ তবে তাতে কিন্তু একটুও ঘাবড়াননি দিশা৷ তাঁর কাছে চিত্রনাট্যটি এক্কেবারে নতুন৷ তিনি জানান, প্রথম পার্টে ছিলেন না বলেই সেরকম কোনও প্রেশার অনুভব করেননি৷ উল্টে খুব কনফিডেন্টলি সাবলিলভাবে অভিনয় করেছেন ছবির ‘নেহা’র চরিত্রে৷ ইতিমধ্যে তাঁর সেই অভিনয় গোগ্রাসে গিলেছেন দর্শকেরা৷ স্বভাবতই, স্বস্তির ছাপ নায়িকার চোখে-মুখে৷