কলকাতা: রাজনৈতিক বাদানুবাদের জের নাকি সত্যিই ব্যর্থতা? তা এখনও স্পষ্ট নয়। মোদী সরকারের সমীক্ষায় দেশের সবচেয়ে পরিষ্কার শহর হল ইন্দোর, আর ‘নোংরা’ শহরের তকমা দেওয়া হয়েছে কলকাতাকে! পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহরের তালিকায় এই নিয়ে পরপর চারবার শীর্ষস্থান দখলে রাখল মধ্যপ্রদেশের এই শহর। কেন্দ্রের এই তালিকাতেই দেশের মধ্যে ‘অপরিচ্ছন্ন’ শহরের তকমা পেয়েছে কলকাতা।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সৌন্দর্যায়নে বাড়তি নজর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালের পর থেকে ঢেলে সাজানো হয়েছে গোটা রাজ্যকে। জেলার সদর শহরগুলির বিভিন্ন এলাকায় নতুন রাস্তা থেকে শুরু করে আলো, পার্ক সবেরই ব্যবস্থা হয়েছে। নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে রাজ্যের রাজধানী তিলোত্তমা কলকাতাকেও। কলকাতার আনাচে কানাচে নতুন আলো লাগানো থেকে শুরু করে, রাস্তায়-রাস্তায় তৈরি করা হয়েছে নতুন রেলিং। শহরের বিভিন্ন রাস্তার নিয়ম করে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রংও করা হয়। বহু রাস্তার মাঝ বরাবর সুসজ্জিত বাগান নজর কাড়ে শহরবাসীর। এককথায় তিলোত্তমা মহানগরী নতুন রূপ ফিরেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। কলকাতার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের নজর রয়েছে শহরতলিতেও। শহরতলির বিভিন্ন এলাকাতেও সৌন্দর্যায়ন হয়েছে।

কিন্তু এত সবেরও মাঝেও বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে পরিচ্ছন্নতার বিচারে পিছনের সারিতে কলকাতা। পরপর চারবার পরিচ্ছন্ন শহরের দৌড়ে সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিল মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর। আর দেশের মধ্যে ‘অপরিচ্ছন্ন’ শহরের তকমা দেওয়া হয়েছে কলকাতাকে। কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের যে শহরের জনসংখ্যা ১০ লক্ষের বেশি, সেই শহরগুলিকে নিয়েই চালানো হয়েছে এই সমীক্ষা।

এদিকে দেশের ‘পরিচ্ছন্ন’ শহরের দৌড়ে শীর্ষে ইন্দোর থাকলেও দ্বিতীয় স্থানটি বারবার বদলেছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশের মধ্যে পরিচ্ছন্ন শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল মধ্যপ্রদেশর রাজধানী ভোপাল। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানে ছিল রাজকোট। তৃতীয় স্থানে সুরাত এবং চতুর্থ স্থানে নভি মুম্বই।

পরিচ্ছন্নতার নিরিখে শহর কলকাতা যে এখনও যে কোনও এলাকাকে টেক্কা দেবে তা অনেকেই মনে করেন। তবে এখনও বেশ কিছু জায়গায় উন্নতিরও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু দেশের মধ্যে সবচেয়ে ‘অপরিচ্ছন্ন’ শহর কলকাতা, এই তথ্য নিয়ে দ্বিমত রয়েছে অনেকেরই। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকের মতে কেন্দ্রীয় সমীক্ষাতেও রাজনৈতিক বিবাদের ছাপ স্পষ্ট। কেন্দ্রের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় পথে নেমে আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র বিরোধিতায় দেশের বিরোধী দলগুলিকে একজোটে নামার বার্তাও দিচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী। আর তাই কেন্দ্রের সুনজরে নেই বলেই কেন্দ্রীয় সমীক্ষাতেও উপেক্ষা করা হচ্ছে বাংলাকে, এমনই অভিযোগ কলকাতাবাসীর একটি বড় অংশের।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও