কলকাতা: আমফানের ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি বাংলা। এই সাইক্লোন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এখনও তছনছ হয়ে আছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা। এমনই বিধ্বস্ত অবস্থা, ছোট সাহেবখালি, ছাতরা, হিঙ্গলগঞ্জের। এই এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলে পরিচালক অভিনেত্রী জুটি বিরসা দাশগুপ্ত ও বিদীপ্তা চক্রবর্তী। পৌঁছে গিয়েছিলেন গ্রামে। আর তার পরিবর্তে এই দুর্দিনেও গ্রামের মানুষের থেকে আপ্যায়ণ পেলেন।

অভিজ্ঞতা ফেসবুকে শেয়ার করে নিয়েছেন খোদ বিরসা দাশগুপ্ত। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখছেন, অনেকেরই বাড়ি নেই। যার আছে, তার ছাদ নেই বললেই চলে। গোটা গ্রামখানাই নোনাজলে ডুবে, তাই খাওয়ার জলও নেই। ইলেকট্রিসিটি তো… থাক, ছেড়েই দিন সে’কথা। আমরা ওদের খাওয়ার জল, ওষুধ, জামাকাপড়, চাল ডাল দিলাম ঠিকই, তবে তাতে খুশি হয়ে ওরা আমাদের যা দিলো তা অকল্পনীয়!

এই আমফান বিধ্বস্ত বাসিন্দারা কী কী খাইয়েছেন তাও জানিয়েছেন পরিচালক। তিনি লিখছেন, আমাদের খিদে পেয়েছে বুঝতে পেরে, এই দুঃসময়েও, ওরা আমাদের রেঁধে, পাত পেড়ে খাওয়ালো। ভাত, মুসুর ডাল, বাগদা চিংড়ি দিয়ে কুমড়োর ছেঁচকি, পটল বাগদা চিংড়ি, গোলমরিচ দিয়ে দিশী মুরগির ঝাল আর কাঁচা আমের চাটনি।

আর বললো, “বাগদাগুলো ঝড়ে ভেসে ঘরে এসেছিলো, কুমড়ো আর পটল আমাদের ক্ষেতের, চাল ডাল যেটুকু বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি…” আমরা এসেছিলাম ওদের সাহায্য করতে, আর ওরা আমাদের জানান দিলো ভালোবাসা কাকে বলে! আর এও শেখালো যে জীবনের ঝড়-ঝাপটা কিভাবে হাসিমুখে অতিক্রম করতে হয়! রোজই কিছু না কিছু শিখি, তবে আজ যা শিখলাম তা কোনওদিন ভুলবো না!

বিরসা এই পোস্টের সঙ্গে বেশ কিছু ছবিও শেয়ার করেছেন। সেই ছবিতেও স্পষ্ট কী ভাবে আমফান তাঁদের জীবনকে ধাক্কা দিয়েছে। ভেঙে গিয়েছে বাড়ি। জলমগ্ন হয়ে আছে চারিধার। কিন্তু তবুও খোলা আকাশের নীচে তাঁরা আশাকে সঙ্গী করে হাসিমুখে বাঁচছেন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প