স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুম্বইয়ে মোদী বিরোধী দলগুলিকে একছাতার তলায় এনে সম্মেলন করলেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার৷ দিন চারেক পর ওইরকম আরও একটা সম্মেলন হল৷ এবার সেই সম্মেলনের আয়োজক বিজেপি নেতা যশবন্ত সিং৷

আর এই দুই সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষিতে ‘কমন’ একজনই৷ তিনি দীনেশ ত্রিবেদী৷ ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী সাংসদ৷ ওই দু’টি সম্মেলনেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকেই পাঠিয়েছিলেন প্রতিনিধিত্ব করার জন্য৷

আরও পড়ুন: রাজ্যে শাসক দলকে হারাতে মোদীর স্লোগান ‘চলো পালটাই’

এর পর সংসদে বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য বক্তৃতা দিতে সৌগত রায়ের সঙ্গে বেছে নেওয়া হয়েছিল তাঁকে৷ সেই বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় সরকারকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতা৷ তিনি বলেন, ‘‘আচ্ছে দিন যখন দেখতেই পাওয়া গেল না, তখন আবার আমাদের খারাপ দিন ফিরিয়ে দিন৷’’

সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলি দেখে জল্পনা বেড়েছে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে৷ অনেকেই বলছেন, যাক ছ’বছর পর আবার তাহলে দলনেত্রীর নেকনজরে আসতে পারেলন দীনেশ ত্রিবেদী৷ স্বস্তির পরিবেশ সাংসদের ঘনিষ্ঠমহলেও৷ কারণ, একসময় কার্যত দলের মধ্যে ব্রাত্যই হয়ে গিয়েছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী৷ সেই পরিস্থিতি থেকে আবার দলের প্রথম সারিতে চলে আসার ঘটনাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ তবে তৃণমূলের তরফে এ নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ না খোলেননি৷ তবে শাসক দলের একটি সূত্র বলছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাড়া বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়ানোর পরিপন্থী৷ তাই সেই সময় তিনি দীনেশ ত্রিবেদীর উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন৷ তার পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দূরত্ব ঘুচে গিয়েছে৷ এর মধ্যে অন্য মানে খোঁজার কোনও প্রয়োজন নেই৷

আরও পড়ুন: বাবুল-রূপা থাকলেও ত্রিপুরায় মুকুল রায়কে ‘সাইড’ করল বিজেপি

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ এর মধ্যে আবার মুকুল-যোগ খুঁজে পাচ্ছেন৷ কারণ, মুকুল রায় তৃণমূলে ছেড়ে বিজেপিতে চলে যাওয়ার পরই দলে দীনেশের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েছে৷ আর এই ঘটনাকে নেহাত কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা৷

কেন তাঁরা এমন মনে করছেন, তা জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে ছ’বছর আগে৷ ২০১২ সালে তখন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী৷ তিনি রেল বাজাটে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করলেন৷ তাও প্রতি স্টেজে মাত্র ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি৷ কিন্তু তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পদ যায় দীনেশের৷ রেলমন্ত্রী মুকুল রায়৷ পরে দীনেশের প্রস্তাব সংশোধন করে ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান মুকুল৷ সেই থেকেই দলের অন্দরে কোণঠাসা হয়ে যান দীনেশ৷ সেই সময় এ নিয়ে একটি কার্টুনও জনপ্রিয় হয়েছিল৷ সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লার অনুকরণে সেখানে দীনেশকে সাজানো হয়েছিল ‘দুষ্টু লোক’৷ তাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা, মুকুল দল ছেড়ে চলে যেতেই দিদিমণির কাছে নম্বর বেড়েছে দীনেশের৷ ‘দুষ্টু লোক’ থেকে তিনি হয়ে গিয়েছেন ‘ভালো’৷

আরও পড়ুন: বাংলার প্রতি মোদীর বঞ্চনায় ক্ষুব্ধ মমতা