অভিষেক কোলে: ক্রিকেটের নন্দনকাননে বছরের শেষ দিনে দিল্লিকে বাগে পেয়েও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রাখতে পারেনি বাংলা। প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে বেঁধে রাখা সত্ত্বেও নীতিশ রানাদের থেকে লিড আদায় করে নিতে ব্যর্থ মনোজরা। ২২০ রানে অল-আউট হয়ে প্রথম ইনিংসে ২০ রানে পিছিয়ে পড়ে তিন পয়েন্টের আশা শেষ হয়ে যায় বাংলার।

তবু জয়ের আশা ছাড়েনি মনোজরা। দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলা অধিনায়ক স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, দ্বিতীয় ইনিংসে দিল্লিকে কম রানে আটকে রেখে জয়ের জন্য ঝাঁপাতে চান তাঁরা। কার্যত ডু-অর-ডাই ম্যাচে পুরো পয়েন্ট তুলে নিতে কতটা মরিয়া বাংলা, সেটা বোঝা যায় তৃতীয় দিনের খেলা দেখে। তবে শেষ বেলায় সুবোধ ভাটির ঝোড়ো ব্যাটিং মনোজদের কাজ কঠিন করে দেয়।

দ্বিতীয় ইনিংসে একসময় ২২১ রানে দিল্লির ৯ জন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে বাংলা। তবে শেষ উইকেটের জুটিতে ৮০ রান যোগ করে ভাটি-খেজরোলিয়া বাংলার প্রত্যাশার বেলুনে পিন ফুটিয়ে দেন। শেষমেশ দ্বিতীয় ইনিংসে দিল্লি অলআউট হয় ৩০০ রানে।

বহু যুদ্ধের নায়ক পোড়খাওয়া অশোক দিন্দার আগুনে বোলিং ছাড়া তৃতীয় দিনে বাংলার প্রাপ্তির ভাঁড়ার কার্যত শূন্য। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে দিন্দাই দিল্লিকে নাগালের বাইরে যেতে দেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনিই ম্যাচে লাইফ-লাইন এনে দেন মনোজদের। প্রথম ইনিংসের খামতি মিলিয়ে জয়ের জন্য বাংলার সামনে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৩২২ রানের।

ন’নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সুবোধ ভাটি দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন। ৫৩ বলের ঝোড়ো ইনিংসে তিনি ৫টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন। এছাড়া হাফসেঞ্চুরি করেন হিম্মত সিং। তিনি ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯২ বলে ৫১ রান করে আউট হন। জন্টি সিধু ৯০ বলে ৪২ রানের যোগদান রাখেন।

দিন্দা ৮৮ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নেন। মুকেশ কুমার ৭১ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। প্রদীপ্ত প্রামানিক ৪৫ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট দখল করেন। এছাড়া সুবোধ ভাটিকে রানআউট করেন দিন্দা।

দিনের শেষ বেলায় পালটা ব্যাট করতে নেমে বাংলা বিনা উইকেটে ১৮ রান তুলেছে। অর্থাৎ ম্যাচ জিতে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখতে শেষ দিনে বাংলাকে করতে হবে ৩০৪ রান। অভিষেক রামন ৮ ও অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৬ রানে ব্যাট করছেন।