স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: উমা অনেকদিন আগেই কৈলাশে ফিরে গিয়েছেন। এখন শুধু শ্যামা মায়ের আরাধনার প্রস্তুতির সময়। চলতি সপ্তাহের শেষেই অনুষ্ঠিত হবে দীপাবলি এবং কালীপুজো। আর এখন পুজো প্রস্তুতি এবং আলোকসজ্জা ঘিরে কালী পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যস্ততা তুঙ্গে। শহর থেকে শহরতলি দীপাবলিকে ঘিরে সর্বত্রই এখন সাজসাজ রব। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার পাশাপাশি বাঁকুড়া, জলপাইগুড়ি জেলা জুড়েও শুরু হয়েছে কালী পুজোর প্রস্তুতি।

অন্যান্য জেলার পাশাপাশি জলপাইগুড়ি জেলার কালী পুজোও এই অঞ্চলের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সুনামের সঙ্গে এই জেলার কালীবাড়ি গুলিতে কালীপুজোর সময় পূজিত হয়ে আসচ্ছেন শ্যামা মা। আরও জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির ঐতিহ্যময় কালীবাড়িগুলির মধ্যে জলপাইগুড়ির দিনবাজার কালীবাড়ির মায়ের মূর্তি খুবই জাগ্রত।

জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির রাজবাড়ির রাজাদের আমল থেকেই এখানেই মায়ের পুজো হয়ে আসছে। জানা গিয়েছে, এই রাজবাড়ির রাজা যোগেন্দ্র রায়করের স্ত্রী জগদ্বেশ্বরী দেবীর হাত ধরেই এই পুজোর প্রচল হয়। কথিত আছে, ‘মা এখানে দিনবাজারের করলা নদীর ঘাটে স্নান করতেন। স্নান সেরে যখন মা মন্দিরে ফেরেন তখন তার পায়ের নুপুরের শব্দ অনেকেই শুনতে পেতেন’.

আগে জলপাইগুড়ির রায়কত পাড়া ট্রাফিক মোড়ে বাজার বসত এখন সেই বাজার বর্তমানে দিনবাজার বলেই পরিচিত। ১৯৭৮ সালে জলপাইগুড়ি দিনবাজার কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিদিনই এখানে মায়ের নিত্য পুজা হয়। শনিবার ও মঙ্গলবার দুপুরে অন্নভোগও দেওয়া হয়। এছাড়াও অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় ভোগ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সামনেই দীপান্বিতা কালীপুজো। আর তারই জন্য আসন্ন পুজোর প্রস্তুতি চলছে এখানে জোর কদমে। পুজো কমিটির সদস্য মানু রায় জানিয়েছেন, বর্তমানে এই মন্দিরের পুজোর দেখভাল করেন দিনবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি।

তিনি আরও বলেন, এখানে মায়ের পুজার কোনও সমস্যা হয় না। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে আসেন এবং মায়ের পুজো দেন। দিনবাজার কালী মন্দিরের সেবায়েত শ্রী গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের এই মায়ের পুজো অত্যন্ত নিয়ম নিষ্ঠা ভক্তি সহকারে পুজো করা হয়’। ‘মায়ের ভোগ হিসাবে খিচুড়ি ভোগ লাবরা ভাজা চাটনি পায়েস মিষ্টি ও ফল নিবেদন করা হয়’। ‘পুজো শেষে ভক্তদের উদ্দেশ্যে খিচুড়ি ভোগ বিতরণ করা হয়’ বলে জানা গিয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য তিথিতে দুর্গাপুজো, বাসন্তী পুজো, বিশ্বকর্মা পুজো এবং গণেশ পুজো উপলক্ষে পুজোর আয়োজন করা হয়। শুধু তাই নয়, কথিত আছে যে, এই মন্দিরে পুজো দিতে আসা সকল ভক্তদের মনস্কামনা পূর্ণ করেন দেবী।

১৮৭০ থেকে ১৮৭৫ সালের নথি ঘেটে জলপাইগুড়ির প্রাবন্ধিক উমেশ শর্মা এই পুজোর বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছেন।