কলকাতা:  সপ্তম এবং শেষ দফা নির্বাচনের আগে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। রাতারাতি ডায়মন্ডহারবারের এসডিপিও মিতুন দে-কে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আর্মহার্স্ট স্ট্রিট থানার ওসি কৌসিক দাসকেও। মূলত আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

বিজেপি জেলা সভাপতি অভিজিৎ দাসের অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার এর পুলিশের একাংশ শাসক দলের হয়ে কাজ করছে৷ সেই বিষয় একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি৷ শুধু শাসক দলের হয়ে কাজ করাই নয়, রীতিমত শাসক দলের সঙ্গে যোগাযোগও রয়েছে পুলিশের একাংশের৷ যদিও নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আইন শৃঙ্খলার অবনতির জন্যই ডায়মন্ডহারবারের এসডিপিওকে সরানো হল৷

চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারে কলকাতায় রোড শো করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। সেই শোভাযাত্রায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। বিদ্যাসাগর কলেজে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধান সরণী এবং কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। ওই ঘটনার রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায় জাতীয় রাজনীতির অন্দরমহলে। প্রকাশ্য জনসভা থেকে এই বিষয়ে পরস্পরকে আক্রমণ করে চলেছেন মোদী এবং মমতা।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদ্যাসাগর কলেজের ওই ঘটনার জেরেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আর্মহার্স্ট স্ট্রিট থানার ওসিকে। থানার অন্তর্গত এলাকায় মিছিলের দায় ওসির উপরেই বর্তায়। অন্যদিকে, গত কয়েকদিন ধরে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতগাছিয়া বিধানসভা এলাকায় হিংসা ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পিছনে রাজ্যের শাসক তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে বিজেপি শিবির।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের অন্তিম তথা সপ্তম দফায় ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা। যা আগামি রবিবারে সম্পন্ন হবে। ওই একই দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মথুরাপুর, জয়নগর এবং কলকাতা লাগোয়া যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, ওই একই দিনে কলকাতার দুই কেন্দ্র যথাক্রমে উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতাতেও ভোট গ্রহণ হবে। ভোট গ্রহণের দিন দুই আগে এই দুই প্রশাসনিক কর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া খুব স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।