স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। বন্ধ অফিস-কারখানা। দিন আনি দিন খাই ব্যক্তিরা চরমে বিপাকে। এই সময় সেই সব মানুষদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্র আগামী ১২ এপ্রিল থেকে চালু করা হবে ২১টি কমিউনিটি কিচেন। সেই কিচেনে ৪০ হাজার মানুষের খাবার তৈরি করা হবে। ১২ দিন ধরে খাবার দেওয়া চলবে।

সকাল ৯টা থেকে ওই খাবারের জন্য আবেদন করতে পারবেন গরিব মানুষরাক। ০৩৩ ৪০৮৭ ৬২৬২ নম্বরে- এই নম্বরে ফোন করলে স্বেচ্ছাসেকরা খাবার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসবে। ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের বক্তব্য, ‘যতদিন আমি বেঁচে থাকব ততদিন কেউ অনাহারে মারা যাবেন না।’ ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যদ্রব্য ভরতি ত্রাণের প্যাকেট। প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, আলু, পিঁয়াজ, চা, বিস্কুট, আটা-সহ মোট ন’টি অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যদ্রব্য।

প্রতিটি বিধানসভার বুথ, গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা ও ব্লক স্তরের নেতা ও কর্মীদের এই ত্রাণের প্যাকেট তৈরি ও বিলির দায়িত্ব দিয়েছেন সাংসদ। সাংসদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দলমত নির্বিশেষে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ। মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই মহামারীতে আমরা অনেককে হারিয়েছি। অনুরোধ করব, কী হবে না হবে তা ঈশ্বরের হাতে। এনিয়ে আতঙ্কে ভুগলে চলবে না। বরং একটু সচেতনাতার সঙ্গে জীবনযাপন করি তাহলে আমার ভাইরাস থেকে বাঁচতে পারব।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “ডায়মন্ডহারবারের সবাই আমার পরিবারের মতো।এখানকার ১৮ লাখ মানুষের জন্য কাজ করা আমার কর্তব্য। এই পরিস্থিতিতে মাঠে নেমে কাজ করা যায় না। কিন্তু থালা বাজিয়ে, মোমবাতি জ্বালিয়ে কোনও গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারব না। কাউকে ছোট না করেই বলছি, কারও বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিলে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারব। তাই এই উদ্যোগ।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বহু তৃণমূল নেতানেত্রীকেই দুস্থ ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে। কেউ বিলি করছেন শুকনো খাবার। কেউ কেউ বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। আবার কেউ কেউ সুরক্ষার স্বার্থে বিলি করছেন মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার।