কোচবিহার: কোচবিহারের সভা থেকে ফের অনুপ্রবেশ ইস্যু খুঁচিয়ে তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘‘ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে এদেশে আসা বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেবে বিজেপি৷’’ তবে হিন্দু শরনার্থীদের তাঁর আশ্বাস, ‘‘হিন্দু অনুপ্রবেশকারীদের ভয় নেই৷ বিজেপি তাদের সম্মান জানিয়ে নাগরিক হিসাবে মর্যাদা দেবে৷’’

উত্তরের কোচবিহার সহ আলিপুরদুয়ার, দুই দিনাজপুর, মালদা, ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত৷ ঐতিহাসিক কারণেই বহু শরনার্থির বাস সেখানে৷ তারা সবাই এখনও নাগরিকের মর্যাদা পাননি৷ তাই কোচবিহারের মাটি থেকেই হিন্দু শরনার্থীদের বার্তা দিলেন গেরুবাহিনীর রাজ্য সভাপতি৷

 

এই প্রথম নয়৷ ২০১৪-র লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে এই রাজ্যের অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন বিজেপির পোস্টার বয় নরেন্দ্র মোদী৷ ধর্মের ভিত্তিতে গেরুয়া শিবিরের ফায়দা তোলার চেষ্টা বলে সরব হয় রাজ্যের শাসক দল৷ এরপর নানা সময় অমিত শাহ থেকে দলের নানা স্তরের নেতা এই ইস্যুতে মুখ খোলেন৷

সম্প্রতি অসমে এনআরসির তালিকা প্রকাশিত হয়৷ সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েন ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম৷ বাদ পড়াদের তালিকায় রয়েছে প্রায় ২৬ লক্ষ বাঙালি৷ বিরোধীদের অভিযোগ ছিল জাতি ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বাঙালিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে অসম এনআরসি থেকে৷

অসমের এনআরসির প্রতিবাদে গর্জে ওঠে তৃণমূল৷ তাদের অভিযোগ, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনৈতিক স্বার্থে এই পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শাসক দলের৷ প্রতিবাদের ঝড় ওঠে গোটা দেশজুড়ে৷ তবে তাতে মাথা ঘামাতে রাজি নয় গেরুয়া দলটি৷ হিন্দু ভোট একত্রিত করতেই তাদের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে৷

বিজেপির বিরুদ্ধে বিভেদের রাজনীতির অভিযোগ তৃণমূলের৷ এনআরসির পর বিজেপিকে বাঙালি বিদ্যেষী বলে আখ্যায়িত করে রাজ্যের শাসক দল৷ এরই পালটা হিসাবে বিজেপির কৌশল, হিন্দু ভোট একত্রিত করা৷ এক্ষেত্রে তাদের পুঁজি শরনার্থীরা৷ তাই সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে গিয়ে হিন্দু শরনার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বারে বারেই বলেন বিজেপি নেতারা৷ দাবি করেন বাংলায় এনআরসির৷ সেই সূত্রেই এদিন দিলীপ ঘোষের ঘোষণা, ‘‘বাংলাদেশের মুসলিমদের বিতাড়ন ও হিন্দু শরনার্থীদের জায়গা দেওয়া হবে৷ দেওয়া হবে নাগরিকত্বও৷’’

লোকসভার বাকি আর মাত্র কয়েক মাস৷ মসনদ দখলে বিজেপির নজরে বাংলার ভোট৷ সেই লক্ষ্যে ঘর গোছাতে শুরু করেছে গেরুয়া ব্রিগেড৷ হিন্দু ভোট এক করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কৌশলের অন্যতম বিজেপি রাজ্য সভাপতির এদিনের ঘোষণা৷