লিখলেন- প্রবীণ সাংবাদিক অশোক বসু

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল। এবার রাজ্য বিধানসভা ভোটে জিতলে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবেন দিলীপ ঘোষ! না দলের তরফ থেকে এমন কোনও ঘোষণা নেই। অন্যান্য দলের যেমন আছে, কোনও এক নেতা বা নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসেবে তুলে ধরে নির্বাচনে যায়, বিজেপির তেমন নেই। ছিল না। ১৯৯৬ সালে কেন্দ্রে ১৩ দিনের সরকার গড়েছিল বিজেপি।

প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। নির্বাচনের আগে বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন এমন কোনও ঘোষণা ছিল না। ভোটের পর বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানো হয়। তারপরে ১৩ মাসের সরকারেরও প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন বাজপেয়ী।

এবং ১৯৯৯ সালে নির্বাচনে জিতে পূর্ণ সময়ের প্রধানমন্ত্রী হন তিনিই। নির্বাচনের আগে তাঁর নাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা না হলেও তিনিই যে প্রধানমন্ত্রী হবেন এটা স্বতঃসিদ্ধ ছিল। প্রথা ভেঙে ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জোরদার আভাস দিয়ে রাখা হয়েছিল, দল ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদি। তার নেতৃত্বেই সরকার গঠিত হবে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ঘোষণার দরকার ছিল না। মোটামুটি জানা ছিল বিজেপি ক্ষমতায় আসছে এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদি। তারপর থেকে দলীয় রীতি মেনে কোনও বিধানসভার নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ তুলে ধরা হয়নি। ভোটের পরে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে।

কোনও কোনও ক্ষেত্রে তো অবিশ্বাস্য চমক ছিল। যেমন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যে আদিত্যনাথ যোগী হবেন এমনটা কেউ ধারণাই করতে পারেননি। এবার এ রাজ্যে বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে প্রচুর জল্পনা চলছে। অনেক নাম ভেসে বেড়াচ্ছে। যে যার মতো নাম হাওয়ায় উড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে এটা ঠিক, ঘোষণা করা না হলেও দলের অন্দরে কিন্তু দু-একটা নাম ঠিক হয়েই থাকে। যাঁদের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হতে পারে। এ রাজ্যের ভোটের উপর খুব গুরুত্ব দিয়েছে বিজেপি। দফায় দফায় কেন্দ্রীয় নেতারা আসছেন। কদিন আগে অমিত শাহ ঘুরে গিয়েছেন। আবার আসবেন।

দিন কয়েক আগে এসেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। ওঁর সঙ্গে কৈলাস বিজয়বর্গীয় ছিলেন। রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বসে ভোট নিয়ে বিস্তর আলাপ আলোচনা করেছেন, পরিকল্পনা করেছেন। কী ঠিক হয়ে আছে জানি না। সেটা বিজেপির অন্দরের ব্যাপার।

তবে আশ্চর্য লেগেছে হঠাৎ করে এক সভায় খুব জোর দিয়ে বিজেপি সাংসদ, তৃণমূল ছেড়ে আসা সৌমিত্র খাঁ বলেছেন, আমাদের দল ক্ষমতায় আসছে এবং দল ক্ষমতায় এলে দিলীপ ঘোষই হবেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা দলীয় ঘোষণা নয়। সৌমিত্র খাঁর নিজের কথা। কিন্তু এর বিরোধিতা করে দলের তরফ থেকেও কিছু বলা হয়নি। রাজনীতি বিশেষজ্ঞ অনেকের ধারণা এটা সৌমিত্রর মুখ দিয়ে বলিয়ে দেওয়া হল।

তাতে জল্পনায় যতি পড়বে। বিজেপির নিয়ন্ত্রক ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। তাদেরই নির্ধারিত নীতিতে দল চলত। ক্রমশ তাতে শৈথিল্য এসেছে। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রবীণরা ক্রমশ কোণঠাসা হয়েছেন। আর এস এস-এর প্রতিনিধিরা অনেকে মারা গিয়েছেন, অনেককে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্রাত্য হয়ে অনেকে বসেও গিয়েছেন। বিজেপির এখন তিনটি স্তর।

বিশেষত এ রাজ্যে। আরএসএস নিয়ন্ত্রিত স্তর বা প্রাক নরেন্দ্র মোদি স্তর । দিলীপ ঘোষরা যার প্রতিনিধি। উত্তর ২০১৪ স্তর। যাঁরা নরেন্দ্র মোদির আকর্ষণে উজ্জীবিত হয়ে পার্টি করতে এসেছেন। এবং উত্তর ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী স্তর। যাঁরা রাজনীতি পেশায় টিকে থাকতে এই দলে এসেছেন এবং দলের নীতি গঠনতন্ত্র এবং আদর্শের প্রতি যাঁদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। সৌমিত্র খান সেই স্তরে আছেন।

অতএব তিনি কী বললেন আর না বললেন তা নিয়ে তাঁর কোনও দায়বদ্ধতা নেই। দলেরও নেই। যদি এবার কোনওভাবে বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে, বিজেপি এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসে, তাহলে দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী হলে খুশি হবেন বিজেপির বেশিরভাগ সদস্য ও কর্মী-সমর্থক। কারণ বিজেপিতে সংগঠক হিসেবে দিলীপ ঘোষের সুনাম আছে।

পার্টির পুরনো লোক। অকৃতদার মানুষ, সারাক্ষণই পার্টির জন্য সময় দিতে পারবেন। বশংবদ নন। সবচেয়ে বড় কথা দুর্মুখ বলে ওঁর খুব ‘সুনাম’ আছে। যখন যে কথা বলেন মনে হয় অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে বলছেন। কিন্তু জেনে বুঝেই সিনেমার মিঠুন চক্রবর্তীর মতো ডায়লগ দিতে পারেন। জানেন দায়িত্ব কাঁধে না থাকলে কোনও দায় থাকে না। যা খুশি তাই বলা যায়। সেটাই উনি কাজে লাগান।

সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা এসব বেশি পছন্দ করে। ওঁর ডায়লগে উত্তপ্ত হয়, উজ্জীবিত হয়। অনেকেই মনে করছেন, রাজ্যের এখনও যা নির্বাচনী পরিস্থিতি তাতে বিজেপির ক্ষমতায় আসা হয়তো বা অবিশ্বাস্য।

তবু যদি বা তর্কের খাতিরে ধরেই নেওয়া যায় এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে তাহলেও কি দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন? নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ যা ঠিক করবেন তাই হবে। ওঁরা কি চাইবেন দিলীপ ঘোষকে মুখ্যমন্ত্রী করতে?

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।