স্টাফ রিপোর্টার,মেদিনীপুর : প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে যুব মোর্চার তান্ডবকে সমর্থন করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ তাঁর বক্তব্য, যুব মোর্চা যা করেছে, ঠিক করেছে৷

শনিবার বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, “রাফাল নিয়ে কংগ্রেস দুই গালে চড় খেয়েছে। কোর্ট থেকেও খেয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও খেয়েছে। আর যিনি ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যুব মোর্চার কর্মীরা কেন গিয়েছেন বুঝতে পারছি না। ওদের আছেটা কি! ফসিলের উপর পেরেক মেরে লাভ নেই! তবে যা করেছেন ঠিকই করেছেন।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

উল্লেখ্য, শনিবার রামলীলা ময়দান থেকে মিছিল শুরু করে বিজেপির যুব মোর্চা। সেই মিছিল এগিয়ে যায় বিধানভবনের কাছে। সেখানে চালানো হয় তাণ্ডব।

বিধানভবনের গেটে থাকা ৭০ বছরের আব্দুল জব্বারকে শারীরিকভাবে প্রহৃত করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর গায়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয় কালি। বিধান রায়ের মূর্তিতেও ঢিল মারে বিজেপির সমর্থকরা। কংগ্রেস কর্মীদের অভিযোগ, জয় শ্রী রাম ধ্বনি দিতে দিতে হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি পুলিশ সামাল দিতে গেলে তাদের গায়েও ছেটানো হয় কালি।

যদিও পরে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। ছত্রভঙ্গ করা হয় বিজেপি সমর্থকদের। দুপুরে বিজেপির রাজ্য দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্র জানিয়েছেন, “এটা রাজনীতি নয়, স্টান্ট…চমক দেওয়া হচ্ছে।”

৮ নভেম্বর রাফায়েল ইস্যুতে রায় ঘোষণা করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই মামলার আর্জি খারিজ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ‘আমাদের এই কথা স্মরণে রাখা উচিত যে সরকারের সঙ্গে ফরাসি সংস্থার বরাত রয়েছে। আর এর আগেও বহুবার এফআইআর আর সিবিআই তদন্ত হয়েছে। এটা নতুন তদন্ত নয়।’ যদিও রাফাল মামলা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন বিচারপতি কে এম জোসেফ। তিনি জানান, তদন্ত সংস্থা যদি মনে করে তবে তারা তদন্তে এগোতেই পারে।

বৃহস্পতিবারই টুইট করে এই রায়কে তদন্তের ক্ষেত্রে ‘নতুন পথ’ বলেই মনে করছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। রাফায়েল তদন্তে যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের কথাও বলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় টুইট করে রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। রাফায়েল রায়ের পর রাহুল গান্ধীকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ।