স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলে অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে কয়েকদিন ধরেই চর্চা চলছিল বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে। সেই চর্চায় জল ঢালতে শুক্রবার একসঙ্গে দলীয় কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, রাহুল সিনহারা।

পশ্চিমবঙ্গে দলের প্রচারে অভিনবত্ত্ব আনতেই এবার বিজেপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হল নতুন কর্মসূচি, ‘‌আমার পরিবার, বিজেপি পরিবার’‌।একটি টোল-ফ্রি মোবাইল নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে মিসড কল দিয়ে বিজেপির সদস্য হতে আবেদন করা যাবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, রাহুল সিনহা।

বিজেপি সূত্রে খবর, দলের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিতে দিল্লির নির্দেশেই এদিন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজ্য বিজেপি। শুধু তাই নয়, এদিন শ্যমাপ্রকাশ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদানের সময় মুকুল রায়কে দুদিক দিয়ে হাত ধরে সাহায্য করেন রাহুল সিনহা আর দিলীপ ঘোষ। যা অতীতে কোনওদিন দেখা যায়নি।

এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন বিজেপি নেতারা। এরপর সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির সূচনার কথা জানান তাঁরা। এদিনের মঞ্চ থেকে একটি গানের অ্যালবাম প্রকাশ করা হয়। এরপরই বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, “নতুন করে সদস্য সংগ্রহ আজ থেকে শুরু হল। ইতিমধ্যেই বাংলায় ৯৫ লক্ষ সদস্য রয়েছে। এবার আমাদের লক্ষ্য তিনকোটি।” এদিনই অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গেরুয়া শিবিরে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান রাজ্য বিজেপির সভাপতি। বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবার বিজেপি। সকলকে সেই পরিবারের অংশ হওয়ার আবেদন করছি।”

এই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। অনুষ্ঠান শুরুর আগে একটি ভিডিও বার্তায় এদিন রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। বলেন, “বাংলায় গ্রহণ লেগেছে। দুর্নীতিতে ঢেকে গিয়েছে। কাটমানি ছাড়া কোনও কিছুই হচ্ছে না।” করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ব্যর্থ বলেও এদিন মন্তব্য করেন জেপি নাড্ডা। বলেন, “রাজ্যের পরিকল্পনা সঠিক নয় বলেই বাংলার পরিস্থিতি এরকম। সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে।” পড়ুয়ারা শিক্ষা পাচ্ছে না বলেও এদিন অভিযোগ করেন তিনি। কৃষকদের আর্থিক অনটনের জন্যও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও