স্টাফ রিপোর্টর, সন্দেশখালি: অগ্নিগর্ভ ন্যাজাট৷ নিহত বিজেপি কর্মীদের শববাহী গাড়ি সন্দেশখালি থেকে কলকাতার দিকে রওনা হতেই বিপত্তি৷ পুলিশ আটকে দেন কলকাতামুখী শববাহী গাড়ি৷

সন্দেশখালির মালঞ্চ মোড়ে তাদের কলকাতার দিকে এগোতে বাধা দেওয়া হয় পুলিশের তরফে৷ নিষেধ না শুনেই বাধা ঠেলে এগিয়ে যায় শববাহী গাড়ি৷ কেন তাদের আটকানো হবে? পুলিশের কাছে প্রশ্ন করতে থাকেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি৷

আরও পড়ুন: সিঙ্গুরে তৃণমূলের হারের কারণ দুর্নীতি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব: রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য

পুলিশের জবাব ছিল, অশান্তি এড়াতেই তাদের অই পদক্ষেপ৷ কলকাতায় নিয়ে যাওয়া যাবে না গেরুয়া শিবিরের নিহত কর্মীর দেহ৷ প্রতিবাদ করতে থাকেন মেদিনীপুরের সামসদ৷ গাড়ি থেকে নেমে রণংদেহী মেজাজে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়৷

দেখা যায়, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েছেন বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা৷ শেষ পর্যন্ত পুলিশের শত চেষ্টাতেও কাজ হয়নি৷ দলের রাজ্য সভাপতির নেতৃত্বে জোর করেই পুলিশি ব্যারিকেট ভেঙে মালঞ্চর মোড় থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয় শববাহী শকট৷

আরও পড়ুন: সোমবার মোদী-কেশরীনাথ বৈঠকে উঠতে পারে সন্দেশখালি প্রসঙ্গ

তবে, এর পরও পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় নিহত বিজেপি কর্মীদের শববাহী শকটের সঙ্গে থাকা দলীয় নেতাদের৷ পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান লকেট চট্টোপাধ্যায়, সায়ন্তন বসুরা৷ দেহ কলকাতায় যেতে না দিলে রাস্তায় মৃতদেহ ফেলে রাখা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন রাহুল সিনহা৷

কেন এই পরিস্থিতি? বিজেপি কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহল সিমহা বলেন, ‘রাজ্য সরকার গণতন্ত্র হরণ করছে আবার তা প্রমাণিত৷ পুলিশ দল দাসে পরিণত হয়েছে৷’ বিজেপির তরফে নিহত কর্মীদের দেহ তাদের পরিবারের অনুমতিক্রমে কলকাতায় রাজ্য দফতরে আনার সিদ্ধান্ত হয়৷ সেখানেই দলের নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়করা নিহত কর্মীদের শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন বলে স্থির হয়৷ সেই মতো শববাহী শকট কলকাতামুখী হলেই শুরু হয় গন্ডগোল৷

আরও পড়ুন: নিশানায় ফের পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া বার্তা মোদীর

শনিবার পতাকা খোলাকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। কায়ুম মোল্লা নামে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বিজেপি পাল্টা দাবি করছে, তাদের ৩ জন বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সন্দেশখালির ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের থেকে৷ দেহ নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের৷