কলকাতা: আবারও স্বমহিমায় দিলীপ ঘোষ। দ্বিতীয়বারের জন্য রাজ্য বিজেপি সভাপতি নির্বাচিত হয়েই ফের বাউন্সার দিলীপের। ‘আমার থেকে কেউ যেন মিষ্টি কথার প্রত্যাশা না করেন। সহ্য শক্তি কম থাকলে বাড়িয়ে নিন’। নাম না করে বিজেপি বিরোধীদের পাশাপাশি দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে বার্তা দিলীপ ঘোষের।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে আরও একবার মনোনীত হলেন দিলীপ ঘোষ। দ্বিতীয় দফায় তিন বছরের জন্য বঙ্গ বিজেপির সভাপতির চেয়ারে বসলেন তিনি৷ বৃহস্পতিবার সর্বভারতীয় বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক মুরলীধর রাও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সভাপতি পদে দিলীপ ঘোষের নাম ঘোষণা করেছেন।

সেকেন্ড ইনিংসের শুরুতেই ফের স্বমহিমায় দিলীপ। এক চুলও সরলেন না নিজের অবস্থান থেকে। দিলীপের সাফ কথা, মিষ্টি কথা তাঁর কাছ থেকে আশা না করাই ভালো। এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘কেউ যেন দিলীপ ঘোষের কাছ থেকে মিষ্টি-মিষ্টি কথা শোনার আশা না করেন। যাঁর সহ্য শক্তি কম, সহ্য শক্তি বাড়িয়ে নিন। আরও কঠিন কথা শুনতে হবে এবার। এখন সেই দিনই আসছে।’

২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) থেকে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাজ্য সভাপতি হন দিলীপ ঘোষ। তারপর ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে খড়্গপুর থেকে নির্বাচিত হন তিনি। দিলীপ ঘোষের আমলেই রাজ্যে বিজেপির সংগঠন মজবুত হয়েছে।

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এরাজ্যে নজিরবিহীন ফল করেছে বিজেপি৷ দিলীপ ঘোষ নিজে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে ফের জয়লাভ করে লোকসভার সদস্য মনোনীত হন। কেন্দ্রীয় বিজেপি সূত্রের দাবি, বঙ্গ বিজেপির পারফরম্যান্সে যারপরনাই খুশি মোদি-অমিত শাহরা। তার উপর আরএসএস-এর পূর্ণ সমর্থন দিলীপ ঘোষের কাছে বাড়তি পাওনা। তাই বিকল্প কোনও মুখের কথা চিন্তা না করেই দিলীপ ঘোষকে ফের একবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসেবে বেছে নিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

রাজ্য সভাপতি পদে দিলীপ ঘোষের দ্বিতীয়বার নির্বাচন নিয়ে দিনকয়েক ধরেই জল্পনা চলছিল দলের অন্দরেই। নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে বিক্ষোভকারীদের গুলি করে মারার নিদান দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। দলের রাজ্য সভাপতির মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী টুইট করেন, ‘দিলীপ ঘোষ যা বলেছেন, তা নিয়ে দল হিসেবে বিজেপির কিছুই করার নেই। উত্তরপ্রদেশ, অসমে বিজেপি সরকার কারও উপর গুলি চালায়নি। দিলীপদার এমন মন্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।’ তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য উড়িয়ে দিলীপ পালটা বলেন, ‘ভুল কিছু বলিনি। যা বলেছি দলীয় লাইন মেনেই।’

তবে রাজ্য বিজেপির একাংশের দিলীপের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের যে এখনও দিলীপেই আস্থা তা ফের একবার স্পষ্ট হল তাঁর রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।