স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দু-দিন আগে মেয়ো রোডে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মঞ্চ থেকে মুকুল রায়কে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। বার্তা দিয়েছিলেন, একুশে বাংলায় বিজেপির জয়ের কারিগর হবেন মুকুলই৷ এবার মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়কেও গুরুত্ব দিল বিজেপি।

মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছে৷ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সিলমোহর দেওয়া সেই তালিকায় স্থান পেয়েছেন মুকুল রায়ের ছেলে তথা বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ও। এ ঘটনাও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শুভ্রাংশুর রাজ্য কমিটিতে জায়গা পাওয়া নিয়েও এদিন রাজ্য বিজেপির অন্দরে নানান বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, রাজ্য বিজেপিতে যখন দিলীপ-মুকুল আড়াআড়ি বিভাজন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট তখন প্রাক্তন রেলমন্ত্রীর বিধায়ক ছেলেকে রাজ্য কমিটিতে নেওয়া নিঃসন্দেহে অর্থবহ। এর নেপথ্যে দিল্লির ভূমিকা দেখতে পাচ্ছেন অনেকেই।

পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের রাজনীতিতে এতদিন তেমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাচ্ছিলেন না বিজেপি–র জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য মুকুল রায় ও তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু। বহুদিন ধরে ব্রাত্য থাকার দরুণ পিতা-পুত্র, দুজনেই পুরনো দল তৃণমূলে ফিরবেন কিনা তা নিয়ে কদিন আগে জল্পনা তীব্র হয়। কিন্তু ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসে কাঁচরাপাড়ায় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি ভারতমাতার পুজোর আয়োজন করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা পরিষ্কার জানিয়ে দেন শুভ্রাংশু।এরপর শুভ্রাংশুকে রাজ্য কর্মসমিতিতে স্থান দিয়ে বিজেপি জল্পনার ইতি ঘটাল। শুধু শুভ্রাংশু নন, মুকুলও বিজেপি ছাড়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন৷

উল্লেখ্য, শুক্রবার মেয়ো রোডের সভায় কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তেই তাঁর বিরুদ্ধে ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না তিনি বাংলার রাজনীতির চাণক্য। মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী তিনি বানিয়েছেন। মুকুল রায়ই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকেও মমতাকে সরাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে কৈলাস বিজয়বর্গীয় এই বক্তব্যের যথেষ্ট তাৎপর্য রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করার জন্য মুকুল রায়ের ওপরই যে নির্ভর করছে দল, বিজয়বর্গীয়র এ দিনের বক্তব্যই তার ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মত বিশ্লেষকদের। আর যেখানে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যখন নিজে বলছেন, একুশে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে তিনি একাই যথেষ্ট, তখন কৈলাশের একথা ধারে-ভারে অনেকটাই বলে মত বিশ্লেষকদের। এরপরই দেখা গেল, নতুন গঠিত রাজ্য কমিটিতে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে রয়েছেন মুকুল রায়৷

তবে উল্লেখযোগ্যভাবে এই কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সহ সভাপতি চন্দ্র কুমার বসু। প্রশ্ন, সপ্তদশ লোকসভায় দক্ষিণ কলকাতা থেকে বিজেপির প্রার্থী হওয়া চন্দ্র বসু কেন তালিকায় নেই? সূত্রের খবর, অতীতে একাধিকবার বিতর্কিত ট্যুইট করে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছেন নেতাজির পরিবারের এই সদস্য। এবার সেই অস্বস্তি এড়াতেই তাঁকে পুরোপুরি ছেটে ফেলা হয়েছে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।