স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দ্বিতীয়বার রাজ্য সভাপতি পদে বসেই দিলীপ ঘোষ বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘তৈরি থাকুন, আরও কড়া কথা শুনতে হবে।’ তিনি তাঁর কথা রেখেছেন৷ সিএএ বিরোধীদের গুলি করে মারার কথা বলার পর এবার শাহিনবাগ ও কলকাতার পার্ক সার্কাসে অবস্থানরত প্রতিবাদীদের উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি৷

দিল্লির শাহিনবাগের কায়দাতে কলকাতার পার্ক সার্কাসের সিএএ-র প্রতিবাদে বিক্ষোভে বসেছেন কয়েকশো মহিলা।’সিএএ-এনআরসি মানছি না, মানব না।’ গত পনেরো দিন ধরে পার্কসার্কাসে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছেন তাঁরা। বিশিষ্ট সমাজসেবী মেধা পাটেকর থেকে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম ওই মঞ্চে গিয়েছেন৷
মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বললেন, ‘পার্ক সার্কাস, শাহিনবাগে যাঁরা আছেন, এত ঠান্ডায় কী করে আছেন? মরেও না তো কেউ? অথচ নোট বাতিলের সময় ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়েই কত লোক মরে গেল!’ আর এহেন অমানবিক মন্তব্যের পর ফের বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিনহা পার্ক সার্কাসের আন্দোলনকারীদের বাংলাদেশী মুসলমান বলে মন্তব্য করেছিলেন৷

এদিন মেয়ো রোডে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের একঝাঁক চিত্রশিল্পীর সিএএ বিরোধী ছবি আঁকা প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘অনেকদিন পর মুখ্যমন্ত্রী ছবি আঁকতে পারছেন। যখন মন খারাপ থাকে, জীবনে হতাশা আসে তখনই মানুষ ছবি আঁকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এখন সেই দশা। প্রশাসনের কেউ তাঁর কথা শোনেন না। উনি বুঝে গিয়েছেন, ২১ সালেই তৃণমূল শেষ।’

এদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাজ্যপালকে ঘিরে হওয়া বিক্ষোভ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ৷ তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে যাননি। রাজ্যপালকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। গো ব্যাক মোদী, গো ব্যাক রাষ্ট্রপতি… এ কোন বাংলার সংস্কৃতি!’ ইচ্ছাকৃতভাবেই মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ওই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যাননি বলে মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। সেইসঙ্গে এই বিক্ষোভের নেপথ্যে মুখ্যমন্ত্রীর মদত আছে বলেও দাবি তাঁর।

তবে এদিন প্রেস ক্লাবে দিলীপ ঘোষের হাতে তরবারি তুলে দেওয়া হয়। যা ঐতিহ্যবাহী প্রেস ক্লাবের সংস্কৃতি বিরোধী বলে সমালোচনাতেও নেমেছেন অনেকে। কিন্তু সেসব নিয়ে অবশ্য বিশেষ কোনও শব্দ খরচ করেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি।