কলকাতা: রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছেন৷ কেন্দ্রীয় পরিবেশ এবং বন প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নবীনবরণ অনুষ্ঠানে গায়ক হিসাবে গিয়েছিলেন৷ অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ আয়োজিত এই অনুষ্টানের বিরোধীতায় বাম ছাত্র সংগঠনগুলি আগে থেকেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল৷

এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী এবং অন্যান্য অতিথিরা বাম ছাত্রদের হাতে মারধর খেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে৷ মন্ত্রীকে ঘিরে রাখা হয়৷ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় তাঁকে উদ্ধার করেন৷ কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস পুলিশ ডাকেননি৷ চিঠিতে দিলাপ ঘোষ অমিত শাহকে লিখেছেন, যে কাজ পুলিশের করার কথা, সেই কাজ রাজ্যপালকে কেন করতে হল৷

আরও পড়ুন : আলিপুর আদালতে আগাম জামিনের আবেদন রাজীব কুমারের

দিলীপ ঘোষ লিখেছেন, বৃহস্পতিবার শুধু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীই নয়, আরও অনেক অতিথি মার খেয়েছেন৷ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পুলিশের কাজ করতে হচ্ছে রাজ্যপালকে৷ এদিকে, বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার প্রতিবাদে ওই বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর থেকেই শুক্রবার মিছিল বেরোবে৷ মিছিলে বাম ছাত্রসংগঠনগুলি থাকবে৷ অন্যদিকে অখিল ভারতীয় বিদ্য়ার্থী পরিষদ বা এবিভিপিও কলকাতায় মিছিল বার করবে৷ রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে দুপুরে সদর দফতর ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেন থেকে মিছিল বেরোবে৷

বৃহস্পতিবার, যাদবপুর বিশ্ব বিদ্যালয়ে “স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতবর্ষের শাসন ব্যবস্থা” শীর্ষক আলোচনা চক্রে ‘সংগীত শিল্পী’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় বাবুলকে। এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল অখিল ভারতীয় বিদ্ধার্থী পরিষদ। তবে তাঁদের এই অনুষ্ঠান হতে না দেওয়ার জন্য সকল থেকেই ব্যাপক প্রচার শুরু করে এসএফআই এবং অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ক্যাম্পাসে আশার পর ঝামেলা আরও বাড়ে। পরিস্থিতি এমন ঘোরালো হয়ে দেখা দেয় যে, বাবুলের নিরাপত্তারক্ষীরাও তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে বাইরে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি।

রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বৃস্পতিবারই বলেছিলেন, মন্ত্রী হিসেবে নয়, নবীন বরণ অনুষ্ঠানে একজন গায়ক হিসাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তাঁকে, মারধর করেছে বামপন্থি ছাত্ররা। যাদবপুর বিশ্ব বিদ্যালয় গুন্ডাদের আখড়া। অন্যদিকে রাজ্যে পার্টির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বাবুলের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন৷ তিনি জানান, অসভ্যতা করা হয়েছে৷ জবাব দেওয়া উচিত ছিল৷