কলকাতা: সম্প্রতি দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করে জানিয়েছেন দিল্লি পু্লিশের বিশেষবাহিনী থেকে গোর্খাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই চিঠির উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে কাঁটাছেড়া। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানান বিজেপি কখনই আলাদা গোর্খাল্যান্ডকে সমর্থন জানায়নি তাই তাঁরা এখনও আলাদা।

২০২১ সালে বিধানসভায় জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে দার্জিলিং। যা নিয়ে এখনই বেশ চিন্তিত রাজ্য বিজেপি। তাই কেন্দ্রের ভূলের সামান্য সংশোধন করল রাজ্য। কিন্তু দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এই বিষয়কে ইস্যু করে রাজনীতি করে সময় নষ্ট না করে উন্নয়নকেই পাথেয় করা দরকার এই সময়ে।

প্রশ্ন করলে দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, “পাহাড়ের উন্নয়নে স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন। বিজেপি পৃথক গোর্খাল্যান্ডের সমর্থক নয়। এটা আগেও বলেছি, পরেও বলবো।” তিনি আরও বলেন, “কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা দার্জিলিং লোকসভা আসনে জয় পেয়েছি। বিজেপি সেখানে উন্নয়ন করতে চায়।”

কিন্তু বিরোধিরা বলছে অন্যকথা। রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গোর্খাল্যান্ড বলে কোনও জায়গা নেই। তবে কেন ওই শব্দের প্রয়োগ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জম্মু-কাশ্মীরের মতো বিজেপি রাজ্য ভাগ করতে চায়। কিন্তু, তৃণমূল যতদিন ক্ষমতায় রয়েছে তা সম্ভব নয়।”

গত ১২ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে চিঠি দেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত। সেই চিঠিতে উত্তরপূর্ব ভারতের জন্য দিল্লি পুলিসের যে বিশেষ বাহিনী তৈরি হচ্ছে তাতে দার্জিলিং পাহাড়ের যুবকদের সামিল করার দাবি জানান তিনি। চিঠিতে ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দটির উল্লেখ থাকায় বিতর্ক বাঁধে। তবে কি পরোক্ষভাবে গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন জানাচ্ছে বিজেপি। উঠছে প্রশ্ন।